বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে গুলি: ভাই-ভাতিজাকে ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় তাঁর ভাই ও ভাতিজাকে অভিযুক্ত করে ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (০৮ আগস্ট) বিকেলে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী আবুল কাশেমের ছোট ভাই মো. আবুল হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে তাঁর ও তাঁর ছেলে ইয়াছিন আরাফাত হৃদয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, অথচ তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ইয়াছিন আরাফাত হৃদয়, চৌমুহনী বড় মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম সবুজ, ভোলার চর ফ্যাশন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন এবং সজিব সার্ভিস সেন্টারের মালিক মো. সজিব।

লিখিত বক্তব্যে আবুল হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাঁর বড় ভাই ও নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কাশেমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. ইয়াছিন সেন্টু গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাজী আবুল কাশেম সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বক্তব্যে তাকে ও তার ছেলেকে এ ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, কাশেমের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব অনিয়ম ও অপরাধের প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেনের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত হৃদয় বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। যদি তদন্তে আমাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, আমরা আইন অনুযায়ী শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সাল থেকে পারিবারিক জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর জেঠা কাশেম তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ২০১৭ সালে তার বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো কাশেম নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত তাকে খালাস দেন। এছাড়া ২০২১ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা ১৪টি মামলাতেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন।

হৃদয়ের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাশেম ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যাতায়াতের পথ দখলের চেষ্টা চালায়। পরে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর সহায়তায় সেগুলো দখলমুক্ত করা হলেও কাশেম এখনো মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : এটিইও-র পর এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই সহকর্মীর অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন