মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে ১০টি ল্যান্ডমাইন ও ৫টি ল্যান্ডমাইনের বক্স উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাতভর এলাকাটি ঘিরে রাখে ৪৭ বিজিবি ও গাংনী থানা পুলিশের সদস্যরা। পাশাপাশি র্যাব-১২ ক্যাম্পের সদস্যরাও টহল জোরদার করেন, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবুল মালিথার ছেলে কাঁদো মালিথা নিজ জমিতে কাজ করার সময় মাটির নিচে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। পরে আরও খোঁড়াখুঁড়ি করলে ১০টি ল্যান্ডমাইন ও ৫টি ল্যান্ডমাইনের বক্স সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা গাংনী থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসে এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক পাহারায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধারস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প ছিল। সে সময় ব্যবহৃত কোনো অবিস্ফোরিত ল্যান্ডমাইন দীর্ঘদিন ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।
গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিমুল কুমার দাস জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো পরীক্ষা করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো কার্যকর ল্যান্ডমাইন কি না, নাকি অন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম।
পড়ুন : গ্রামাঞ্চলে ‘হেলথ হাব’ গড়ে তোলা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সা/


