টাঙ্গাইলে নারীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ভুক্তভোগীকে অপহরণের অভিযোগে তার মাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- সখীপুর উপজেলার খোরশেদ আলম মো. শহিদ, মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ইসমাইল, মজিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান এবং ভুক্তভোগীর মা আবু হানিফের স্বামী অযুফা বেগম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ মে সখীপুরে রাতে এক নারী তার মায়ের কথা মত তার সাথে সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা কবিরাজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দ্যেশ্য রওরা হয়। এসময় তারা কীর্ত্তনখোলা লোহার ব্রিজের পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে ওই নারীকে অজ্ঞাতস্থানের একটি দোকানে নিয়ে যায়। এসময় ৫ জন ব্যক্তি ভয়ভিত্তি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তারা ওই নারীকে একটি বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যায়। এসময় তার ডাকচিৎকারে তার স্বামী এগিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিজে থানায় জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালতে স্বাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এসময় প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া এ মামলায় আসামী আবুল হোসেন ২০২৪ সালে মৃত্যুবরণ করায় আদালত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বাতিল করেন। মামলা রায়ের উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মা অযুফা তার সৎ বোনের বিয়ে হয় না বলে কবিবারের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে আসামীদের হাতে কৌশলে উঠিয়ে দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন- নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালের বিশেষ পিপি ওমরাও খান দিপু এবং আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট আকলিমা খানম।
নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালের বিশেষ পিপি ওমরাও খান দিপু বলেন, ১১ জন স্বাক্ষী ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক এ রায় দেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্টি। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি করছি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

