বিজ্ঞাপন

মেহেরপুরের গাংনীতে ৪৮ পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ জন পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ১৩তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষক থেকে ১১তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়া এসব শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পিএসসির মাধ্যমে গাংনী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। এ পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছে দাবি করে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়।

গাড়াডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন জানান, পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৪৮ জন শিক্ষককে গাংনী উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে ডেকে আলোচনা সভা করেন তেরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, পদোন্নতির জন্য তার টাকা খরচ হয়েছে, যা শিক্ষকদের দিতে হবে। পরে সহড়াবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিরুল ইসলামের হাতে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

করমদি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, পদোন্নতির জন্য টাকা লাগবে বলে অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষকদের বলা হয় টাকা না দিলে পদোন্নতি আটকে যেতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তেরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারও কাছে কোনো টাকা দাবি করা হয়নি।

অভিযোগে থাকা সহড়াবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিরুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করে, ফোন বন্ধ করে রাখেন।

বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র বলেন, পিএসসির আওতায় পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এখানে টাকা-পয়সা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন : টাঙ্গাইলে গণধর্ষণ মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন, মায়ের ১৫ বছরের কারদণ্ড

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন