টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুজ্জামানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির ৩ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বরিশাল সদর (কোতোয়ালি) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) বরিশাল সদর (কোতোয়ালি) থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়রিতে অভিযুক্তরা হলেন—নলছিটি টিএন্ডটি সড়কের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা (দাবীদার) মোঃ খন্দকার সালেহ আহমেদ পারভেজ, নান্দিকাঠী এলাকার সাবেক কাউন্সিলর ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য এনায়েত করিম মিশু এবং নলছিটি পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মোঃ সরোয়ার হোসেন তালুকদার।
৯ আগস্ট (রবিবার) ২০২৫ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের বিআরটিসি কাউন্টারের পাশে অবস্থানকালে খন্দকার সালেহ আহমেদ পারভেজ তার মোবাইল ফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ এনায়েত করিম মিশু ও তাকে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান সাধারণ ডায়েরিতে আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।
এ বিষয়ে সালেহ পারভেজ বলেন, মিশু ভাইর ফোন ধরেনা ফোন ধরে আবার কেটে দিছে একারনে আমি ফোন দিছি। ফোনে কথা-কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “জিডি যেহেতু করা হয়েছে, সেহেতু কোনো না কোনো ঘটনা ঘটেছে। ফোনে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে, তবে বিষয়টি জিডি করার মতো গুরুতর কিছু নয়।”
এ বিষয়ে এনায়েত করিম মিশুর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, “আমার কাছে ২৫ হাজার টাকা চাইছে, আর না হলে ১৫ হাজার টাকা নিতে বলছে। একটা টেন্ডার নিয়ে আজকে চার মাস যাবৎ উদ্ভাক করে। এরপর তাকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন না। যে কারণে আমি তাকে বলছি, আপনার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ঝাড়ু মিছিল করবে।”
তিনি আরও বলেন, “যা বলছে সত্যি বলছে, ওরে আবার প্রাণের হুমকি দেবে কি?” তবে তার কথার শুরুতে ২৫-১৫ হাজার টাকা বললেও শেষে আবার সেটি ২৫ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, আমাকে ফোনে অশ্লীল গালিগালাজ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। মিশু ও পারভেজ ফোন করে বলেন, ‘তোরে জুতা দিয়ে পিটামু, তোরে দেখাইয়া দিমু, জিরো পয়েন্টে আসলে তোর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলবো’ এবং ‘শুয়োরের বাচ্চা’সহ বিভিন্ন অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এছাড়াও সরোয়ার তালুকদার আমার অফিসকক্ষে গিয়ে বলেন, ‘তোরে মারতে আসছি’ বলে হুমকি দেন। তবে টাকা দাবির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
পড়ুন : টাঙ্গাইলে গণধর্ষণ মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন, মায়ের ১৫ বছরের কারদণ্ড


