গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাপ-দাদার জমি রক্ষার দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আজ রোববার গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব মিলনায়তনে এক সমাবেশ করা হয়।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুরমু, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিটিশ সরেন, আদিবাসী- বাঙালি সংহতি পরিষদ, গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য সচিব মোর্শেদ হাসান দীপন, আদিবাসী নেতা আনিছুর রহমান মইনুল, অঞ্জলী মুরমু, তৃষ্ণা মুরমু প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘সাঁওতাল হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ১০ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ এমন একটি বিভৎস, অমানবিক ঘটনার আজও বিচার হয়নি। সাঁওতাল হত্যার আসামী নিষিদ্ধ সংগঠন আ’লীগের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ আসামিদের গ্রেফতারের দাবি করেন। বক্তরা আরও বলেন, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, সারাদেশে সাঁওতালসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠী মানবাধিকার এবং জীবনমানের সার্বিক দিক দিয়ে আজও নানাভাবে বঞ্চিত। সে কারণেই তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর থেকে পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত। এ অবস্থার নিরসনের দাবি জানানো হয়।
এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সাঁওতাল নারী-পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তীর-ধনুক ও বাদ্যযন্ত্রসহ তাদের অধিকার ও দাবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে একটি মনোজ্ঞ আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় চিনিকলের বিরোধ জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন আ’লীগের সাবেক এমপি আবুল কামাল আজাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল ও উপজেলা আ’লীগের নেতা আব্দুল লতিফ আকন্দের নির্দেশে হামলা চালিয়ে হত্যা ও বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ করে লুটপাট করা হয়।
পড়ুন : মাইন ঘিরে ৩৬ ঘণ্টা ধরে আতঙ্ক, দেখা নেই নিষ্ক্রিয়কারী দলের


