বিজ্ঞাপন

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামের অনুপ্রেরণা: নেত্রকোনার ডিসি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস (২২ শ্রাবণ) উপলক্ষে নেত্রকোনায় ভাবগম্ভীর ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে…’ শীর্ষক গীতিনৃত্য ও আলেখ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নেত্রকোনার আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, জেলা কালচারাল অফিসার মো. আতিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং সংস্কৃতিপ্রেমী সুধীজন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় জাগরণের প্রতিটি স্তরে এবং জাতির মনন গঠনে রবীন্দ্রনাথের অবদান অপরিসীম। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান- আমাদের প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বিশ্বমানবতার বাণী যুগে যুগে আমাদের পথ দেখাবে। তাঁর সাহিত্যের যে আভিজাত্য, তা তুলনাহীন এবং নতুন প্রজন্মের উচিত এই আভিজাত্যকে নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করা।”

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল স্থানীয় এবং শিল্পকলা একাডেমির শিশু ও তরুণ শিল্পীদের পরিবেশিত রবীন্দ্র নৃত্য, আবৃত্তি ও সঙ্গীত। শিশু শিল্পীদের সুমধুর কণ্ঠে হারমোনিয়াম ও তবলার তালে রবীন্দ্রসংগীত এবং নৃত্যশিল্পীদের চমৎকার নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে রবীন্দ্রকাব্যের গূঢ় বাণী ও ভাবাবেগ অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। রবীন্দ্রনাথের সুরের মূর্ছনা এবং মননশীল আবৃত্তির মধ্য দিয়ে পুরো মিলনায়তনে এক আবেশের সৃষ্টি হয়, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন।

বক্তারা পরিশেষে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, সুখে-দুঃখে তাঁর উপস্থিতি বাঙালির জীবনে অমলিন। নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীলতা, মানবতাবাদী চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের নিয়মিত আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ‘সহজ ধারার’ আশ্বাসে ঘুষ, অডিও ফাঁসের পর শৈলকুপার এসআই তরিকুল প্রত্যাহার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন