সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর আবাসিক এলাকা থেকে আবুল হাসনাত সুলায়মান (৪২) নামে এক ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে। রোববার রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
জানা গেছে, আবুল হাসনাত সুলায়মান সুনামগঞ্জ শহরে একটি ট্রাভেলস ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মৃত্যুর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তাঁর নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন তিনি। ওই পোস্টে ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্রে দুই ব্যক্তির কাছে মোট ১৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাওনা থাকার অভিযোগ করেন। সিদ্দিকের কাছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাওনার অভিযোগ ফেসবুক পোস্টে সিদ্দিক আহমেদ নামে এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাওনা থাকার দাবি করেন আবুল হাসনাত সুলায়মান।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সিদ্দিক আহমেদ তাঁর সৌদি আরব প্রবাসী বোনজামাই আব্দুল কদ্দুসের বিভিন্ন ভিসা তাঁর মাধ্যমে প্রসেসিং করিয়েছিলেন। একপর্যায়ে সিদ্দিক আহমেদ ও তাঁর বোনজামাইয়ের কাছে তাঁর পাওনা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। পাওনা টাকার বিনিময়ে একটি ভিসাসহ পাসপোর্ট আটকে রাখলে সিদ্দিক তাঁর অফিসে এসে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে যান বলে পোস্টে দাবি করেন। কিন্তু এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও চার বছর পার হয়ে গেলেও টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, পরে স্থানীয় ময়না ভাইয়ের উপস্থিতিতে সিদ্দিক পাওনা টাকার বিষয়টি স্বীকার করে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পরবর্তীতে ফোন ও মেসেজ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন আবুল হাসনাত সুলায়মান। কাওসারুজ্জামানের কাছে ১৪ লাখ টাকা পাওনার অভিযোগ পোস্টে কাওসারুজ্জামান তালুকদার নামে আরেক ব্যক্তির কাছে ১৪ লাখ টাকা পাওনা থাকার দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ইতালি ওয়ার্ক পারমিট, ওয়ার্ক পারমিট প্রসেসিং এবং সৌদি আরবের ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে কাওসারুজ্জামানকে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় টাকা ফেরত পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, কাওসারুজ্জামানের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে নতুন ফেসবুক আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ হলে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। গত রমজানের ঈদে মাত্র ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।কাওসারুজ্জামানের কাছে পাওনা টাকার বিষয়ে কিছু প্রমাণ তাঁর পুরোনো ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুছে গেছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন আবুল হাসনাত সুলায়মান। তবে নতুন ফেসবুক আইডিতে কাওসারুজ্জামানের পাঠানো টাকা দেওয়ার আশ্বাসসংবলিত কয়েকটি ভয়েস মেসেজ নিজের মেসেঞ্জারে সংরক্ষণ করে রাখার কথা জানান তিনি।
‘আমার কিছু হলে দায়ী থাকবে’—পোস্টে অভিযোগ ফেসবুক পোস্টে আবুল হাসনাত সুলায়মান আরও দাবি করেন, ঝিগলি গ্রামের ইব্রাহিম কাওসারুজ্জামানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে তাঁর টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। ইব্রাহিম কাওসারুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, শুধু এই দুই ব্যক্তি নয়, আরও কয়েকজনের কাছে তাঁর টাকা পাওনা রয়েছে। তাঁদের নাম ও পাওনা টাকার হিসাব তাঁর অপো মোবাইলের Cash Book অ্যাপ্লিকেশনে লেখা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। পোস্টের শেষদিকে তিনি “আমার যদি কিছু হয়, তাহলে কাওসারুজ্জামান তালুকদারও এর জন্য দায়ী থাকবে”—এমন অভিযোগ করেন। এরপর লেখেন, “খোদা হাফেজ।” এদিকে, ফেসবুক পোস্টে যাদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ বা পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পোস্টে করা আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া আবুল হাসনাত সুলায়মানের মৃত্যুর সঙ্গে এসব আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
পড়ুন : ‘সহজ ধারার’ আশ্বাসে ঘুষ, অডিও ফাঁসের পর শৈলকুপার এসআই তরিকুল প্রত্যাহার


