মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে যশোর ৫৫ ডিভিশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট। উদ্ধার করা মাইনগুলো পরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর সফল অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে যশোর সেনানিবাস থেকে আসা ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ বোম ডিসপোজাল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এর আগে গত দুই দিন ধরে পুলিশ ও ৪৭ বিজিবি ঘটনাস্থলটি ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা ধাপে ধাপে মাটি খনন করে মোট ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ৭৯টি মানববিধ্বংসী এবং ১৭টি ট্যাংকবিধ্বংসী মাইন রয়েছে। উদ্ধার শেষে বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্রাম থেকে দূরে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। পুরো উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর মেজর তরিকুল ইসলাম।
এলাকাবাসীর দাবি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলগত কারণে এসব ল্যান্ডমাইন ওই এলাকায় পুঁতে রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন মাটির নিচে চাপা থাকায় বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিল। সম্প্রতি পতিত জমিতে কাজের সময় মাটি খননের একপর্যায়ে বিস্ফোরকগুলো শনাক্ত হয়।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। উদ্ধার করা ল্যান্ডমাইনগুলো নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করা প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার কৃষক কালু মালিথা নিজ তিত জমিতে কাজ করার সময় মাটির নিচে বিস্ফোরক সদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ও ৪৭ বিজিবি ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করে এবং সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে ধ্বংসের প্রস্তুতি চলছে।
পড়ুন : অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্রে থমকে যাচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উন্নয়ন


