চট্টগ্রামের পটিয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেলেও দাখিল পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছে মাদ্রাসাগুলো। উপজেলার সাধারণ শিক্ষার ৪৪টি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিপরীতে ২৪টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
অন্যদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার হয়েছে ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এসএসসিতে পাস করেছে অর্ধেকের কিছু বেশি:
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পটিয়ার ৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৭৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৯ জন। ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।
ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে চিটাগাং আইডিয়্যাল হাই স্কুল (পটিয়া ক্যাম্পাস)। প্রতিষ্ঠানটির ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় প্রথম হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গৈড়ালা করণখাইন প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়। ৬২ জনের মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
তবে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক। শাহ আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ ভূর্ষি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, হাঁইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ পাস করেছে।
দাখিলে উল্টো চিত্র, পাসের হার ৭২.৭২ শতাংশ:
এসএসসির তুলনায় দাখিল পরীক্ষায় পটিয়ার মাদ্রাসাগুলো বেশ ভালো ফল করেছে। উপজেলার ২৪টি মাদ্রাসায় মোট ৮৬৫ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
দাখিলের ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে মেহের আটি হযরত নুরুদ্দিন শাহ (র.) দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। পাসের হার ১০০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আশিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯০ শতাংশ।
এছাড়া আলহাজ্ব এস এম নাছিমা বেগম দাখিল মাদ্রাসা ৮৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, হাইদগাঁও গোবিন্দারখীল গাউছিয়া ছোবহারিনয়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা ৮৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং রশিদাবাদ মোহাম্মদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা ৮০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে।
ভোকেশনালেও হতাশাজনক ফল:
এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পটিয়ার ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
এ বিভাগে প্রথম হয়েছে ছনহরা ষোড়শীবালা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় হয়েছে মাইফুলা কবির কারিগরি স্কুল এবং তৃতীয় হয়েছে লাখেরা উচ্চ বিদ্যালয়।
অন্যদিকে চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার মাত্র ২৯ শতাংশ, যা এ বিভাগে সবচেয়ে কম ফলাফলের মধ্যে রয়েছে।
ফলাফলে বড় ব্যবধান:
পটিয়ার তিন ধারার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ এসএসসি ও ভোকেশনালের তুলনায় দাখিলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো।
সাধারণ এসএসসিতে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, দাখিলে ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনালে) ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
অর্থাৎ সাধারণ এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার প্রায় ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে ভোকেশনালে পাসের হার সাধারণ এসএসসির চেয়েও প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
ফলাফলে ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্তোষ থাকলেও কম পাসের হার পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কম ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিপন কান্তি দে বলেন, ফলাফল পর্যালোচনা করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার তুলনামূলক কম হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পড়ুন : কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুবদল নেতার উদ্যোগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান


