বিজ্ঞাপন

অভাবের ঘরে জিপিএ-৫, মিষ্টি-ফল নিয়ে হাজির ছাত্রনেতা

সন্তানের হাতে জিপিএ-৫-এর ফলাফল, কিন্তু সেই সাফল্যে ঘরে নেই মিষ্টি, নেই উৎসবের আয়োজন। অভাবের কারণে স্বজনদের নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্যও ছিল না কুড়িগ্রামের পুরাতন রেলস্টেশন পাড়ার মো. হাসু মিয়ার পরিবারের। এমন সময়ে মিষ্টি ও ফলের ঝুড়ি নিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা।

বিজ্ঞাপন

হাসু মিয়ার একমাত্র ছেলে মো. হাসিবুল হাছান বিজয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কুড়িগ্রাম রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সন্তানের এমন সাফল্যে পরিবারে আনন্দ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা উদযাপন করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি জানতে পেরে নিজ উদ্যোগে হাসু মিয়ার বাড়িতে ছুটে যান ছাত্রনেতা সোহেল রানা। সঙ্গে নিয়ে যান মিষ্টির প্যাকেট ও ফলের ঝুড়ি। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সন্তানের সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি।

হঠাৎ মিষ্টি ও ফল নিয়ে সোহেল রানা বাড়িতে হাজির হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাসু মিয়া। সন্তানের সাফল্যের আনন্দে তার চোখে পানি চলে আসে। এতে নীরব পরিবারটিতেও ফিরে আসে উৎসবের আবহ।

প্রতিবেশী মোছা. আনোয়ারা বেগম বলেন, মো. হাসু খুবই দরিদ্র। অনেক কষ্ট করে তিনি ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। নিজের চেষ্টা এবং আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় ছেলে ভালো ফল করেছে। এতে পুরো এলাকার মানুষ গর্বিত। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো ফল করবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

হাসু মিয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ছেলের জন্য মিষ্টি কিনে আনন্দ করার সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু সোহেল রানা ভাই খবর পেয়ে নিজে বাড়িতে এসে মিষ্টি-ফল নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ছেলেটার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমাদের মতো অসহায় মানুষের পাশে যেন সবাই দাঁড়ায়।’

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মো. হাসিবুল হাছান বিজয় বলেন, ‘আমার ফলাফলের খবর শুনে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ভাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার মতো অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে তিনি সবসময় থাকবেন—এটাই প্রত্যাশা।’

কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য তাদের আনন্দিত করে। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত। ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বিজয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

অভাবের কারণে সন্তানের সাফল্য উদযাপনের সুযোগ না থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। বিজয়ের জিপিএ-৫ অর্জনের আনন্দে অংশীদার হয়ে পাশে দাঁড়ান ছাত্রনেতা সোহেল রানা।

পড়ুন: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত হয়েছে: আইআইএমএম

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন