রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টায় রাজধানীর নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীর সাইন্সল্যাব সংলগ্ন প্রিয়াঙ্গন শপিং সিটি এলাকায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট যুবদলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান করছেন। সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউমার্কেট থানা-পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারী কয়েকজন দোকান বসান। সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে দোকান সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর কিছুক্ষণ পর লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতরা হলেন- প্রিন্স খন্দকার, যুগ্ম আহবায়ক, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল, মো. সুমন সিকদার, যুগ্ম আহবায়ক, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল, মো. সাগর খান, আহবায়ক সদস্য, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল, মো. সায়মন ইসলাম, আহবায়ক সদস্য, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল, মুসফিকুর রহিম, সদস্য, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল, জিহাদুল ইসলাম, ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী, শাকিব হাসান, সদস্য, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও ইমরান হোসেন, সদস্য, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল।
এদিকে সংঘর্ষের খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে পরে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের কাছাকাছি বসুন্ধরা গলিতে কে এম চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
কে এম চঞ্চলের ভাষ্য, নিউমার্কেটের ফুটপাতে যুবদলের কয়েকজন কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি তাদের মারধর করেছেন। পরে তার রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংঘর্ষের বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
পড়ুন : আজ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
সা/


