ঢাকার আশুলিয়ায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অপহরণের ঘটনায় তাদের সরাসরি সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম সানভি এবং তার বন্ধু নাজিম। তৌহিদুল ইসলাম সানভি এনসিপির আশুলিয়া থানা কমিটির প্রচার সম্পাদক। তবে এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত শাকিল (২৩) এখনো পলাতক রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত ১০ আগস্ট দুপুরে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে গতকাল মঙ্গলবার থানায় মামলা করেন ওই স্কুলছাত্রীর মা। তিনি জনৈক শাকিল নামে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ তার (শাকিলের) অজ্ঞাত সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে তৌহিদুল ইসলাম সানভি এবং নাজিম নামের দুইজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরে তাদের দুজনকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন। পরে মামলাটিতে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতে পাঠানো হয়।
ওসি আরও বলেন, ওই স্কুলছাত্রীকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে উদ্ধারসহ প্রধান অভিযুক্ত শাকিলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করত। বখাটে শাকিল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে ওই স্কুলছাত্রীকে স্কুলে দিয়ে আসেন তার মা। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, দুপুর ২টার দিকে স্কুল গেটের সামনে থেকে বখাটে শাকিল ও তার সহযোগীরা অসৎ উদ্দেশ্যে ওই স্কুলছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
তৌহিদুল ইসলাম সানভি এনসিপির আশুলিয়া থানা শাখার প্রচার সম্পাদক—বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একই কমিটির সভাপতি হাজী মনজুরুল ইসলাম মণ্ডল।
তিনি বলেন, “আমি যতটুকু জেনেছি, সানভির সম্ভবত কোনো এক বন্ধুর সঙ্গে একটা মেয়ের প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল। তারা পালিয়ে গেছে এবং পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে। সেই বন্ধুর সঙ্গে সানভির কথোপকথন ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সানভিকে পুলিশ ধরেছে। এটা প্রেমঘটিত একটা বিষয়। একটা সংগঠনে থাকলে তো মানুষের কিছু ব্যক্তিগত বিষয় থাকতে পারে। এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।
তিনি বলেন, তারপরও আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তে যদি মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয় এবং ঘটনার সঙ্গে সানভির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পড়ুন : সাবেক মন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী মোনালিসা আরেক মামলায় গ্রেপ্তার


