দেশের পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে সিটি গ্রুপ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইকুইটি পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই শিল্পগোষ্ঠী। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন-কানুন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিটি গ্রুপের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির আওতায় প্রস্তাবিত তহবিল সংগ্রহের জন্য ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস পিএলসি।
সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও অর্থায়নের চাহিদা পূরণে অন্যান্য অর্থায়ন ব্যবস্থার পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে একটি টেকসই অর্থায়নের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি গ্রুপ পুঁজিবাজারে যুক্ত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হবে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুঁজিবাজারে প্রবেশের এই উদ্যোগ অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানকেও বিকল্প অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন ইস্যুয়ার বাড়ার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রস্তাবিত ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহে বিভিন্ন ধরনের পুঁজিবাজার উপকরণ ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুক বা অনুমোদিত অন্য কোনো পুঁজিবাজার উপকরণ থাকতে পারে। তবে কোন পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা হবে, তা প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।
লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস পিএলসি সব ধরনের বিধিবিধান অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিশ্চিত করে ইস্যু ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট পুঁজিবাজার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবে। দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সিটি গ্রুপের জন্য উপযুক্ত অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এদিকে প্রস্তাবিত লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যাংকিং সেবা ও অবকাঠামো দিতে ব্যাংকিং পার্টনার এবং ব্যাংকার টু দ্য ইস্যু হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সঙ্গে কাজ করবে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান, স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক ফারজানা রহমান এবং শম্পা রহমান, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী এবং ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন:৩ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার
ইমি/


