ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী বাজারে পৈত্রিক জমি নিয়ে চাচা ও ভাতিজার দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ) দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে দুই পক্ষের অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরোধটি বেগুনবাড়ী বাজারের গ্রামীণ টাওয়ার সংলগ্ন পাইকপাড়া মৌজার ৯১৬ নম্বর দাগের ৪ একর ৭৪ শতক এবং ৯২২ নম্বর দাগের ২৯ শতক পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে। এ জমি নিয়ে বেগুনবাড়ী পাইকপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হান্নান ও তার ভাতিজা মো. আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে।
আব্দুর রাজ্জাক ও স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে আব্দুর রাজ্জাক মার্কেট ও ডিজিটাল স্কেল স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার নির্মাণ করা মার্কেট ও ডিজিটাল স্কেল আব্দুল হান্নান দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুর রাজ্জাক। পরে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে সেখানে অবস্থান না করার নির্দেশ দেয় সেনাবাহিনী।
আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, তার চাচা আব্দুল হান্নান জমি নিয়ে ২০০৬ সালে বাটোয়ারা মামলা করেন। ২০১৩ সালে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। পরে আপিল করা হলেও ২০১৬ সালে সেটিও খারিজ করেন আদালত। এরপর করা আরেকটি মামলাও চলতি বছরের ৬ আগস্ট খারিজ করে দেয় আদালত।
এ অবস্থায় শুক্রবার আব্দুর রাজ্জাক বিরোধপূর্ণ স্থানে তার নির্মাণাধীন মার্কেট ও ডিজিটাল স্কেল দখলে নিতে গেলে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেন। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার বিবাদী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার চাচার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছে। তার নির্মাণ করা মার্কেট ও ডিজিটাল স্কেল দখলে নেওয়া হয়েছিল। আদালতে তিনটি মামলা খারিজ হওয়ার পর কাগজপত্রের ভিত্তিতে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বুঝে নিতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং মারমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
অন্যদিকে মামলার বাদী আব্দুল হান্নান বলেন, তিনি বাটোয়ারা মামলা করেছিলেন। তবে প্রতিপক্ষ যে মামলাটি খারিজের কাগজ দেখাচ্ছে, সেখানে মামলার নম্বর ঠিক থাকলেও বাটোয়ারা মামলা উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে তিনি আবারও আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। মামলা চলমান থাকায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাও রয়েছে। শুক্রবার দুই পক্ষ মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাজাহান আলী বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। যেহেতু বিষয়টি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, তাই আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
পড়ুন : অবৈধ বালু ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ


