বিজ্ঞাপন

‎১৯ বছরের রাজুর শরীরজুড়ে এখনো শিশুর ছাপ, দুঃশ্চিন্তায় পরিবার

‎কাগজে-কলমে বয়স ১৯ বছর। কিন্তু দেখলে মনে হবে ছোট্ট এক শিশু। বয়স বাড়লেও স্বাভাবিকভাবে বাড়েনি শরীর। থেমে গেছে শারীরিক বৃদ্ধি। হাতেও রয়েছে জটিলতা। নিজের দৈনন্দিন কাজ করাই যেখানে কঠিন, সেখানে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখাটাও যেন রাজুর জন্য বিলাসিতা।

‎কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের প্রতাপ বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোস্তফা রঞ্জিনা দম্পতির সন্তান রাজু।

‎সরকারি প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র অনুযায়ী,রাজুর জন্ম ২৬ অক্টোবর ২০০৭। বর্তমানে সে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না।এই বয়সে অনান্য ছেলে মেয়েরা যখন নিজের ও পরিবারের ইচ্ছে পূরণে পড়াশোনা ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন রাজু স্বপ্ন পুড়ে তখন হতাশার চৌকাঠে।বয়স বাড়লেও এখনো আচরণ শিশুর মত।ছেলেকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারটি।ভবিষত নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে রাজুর বাবা মায়ের।

‎প্রতিবেশি মনোয়ার হোসেন বলেন, রাজুর বয়স ১৯ তবুও শিশু।তার সমবয়সীরা বিভিন্ন পেশায় থেকে পরিবারকে সহযোগিতা করছেন।অথচ রাজু এখনো শিশুই রয়ে গেল।সরকার যদি রাজু’র জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়তো রাজুর ভবিষতটা ভালো চলতো।

‎রাজুর বাবা মো. গোলাম মোস্তফা একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। ছয় সদস্যের সংসার চলে তার সীমিত আয়ে। বড় ছেলের একটি ছোট দোকান থাকলেও সেখান থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের বাড়তি ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে রাজুর চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি ঋণের বোঝায় জর্জরিত।

‎রাজুর মা রঞ্জিনা বেগম বলেন,জন্মের পর রাজুর শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিকই ছিল। ৭ মাস বয়স থেকে কিন্তু তার বৃদ্ধি থেমে যায়।অনেক চিকিৎসা করার পর ৬ বছরে হাটতে শেখে।ওর পিছনে অনেক অর্থ ব্যয় করেছি ছেলেকে সুস্থ করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে অনেক টাকা। কিন্তু তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।এখন অর্থের অভাবে থেমে গেছে চিকিৎসাও।আমরা এখন নিরুপায় জানি না ছেলেটার কি হবে।
‎‎
‎রাজুর চাচাত ভাই মোঃ সাদিক বলেন,রাজু আমার চাচাত বড় ভাই।আমি দশম শ্রেনির ছাত্র।সে আমাদের মত স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলে হয়তো রাজু ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতো।

‎কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের শারীরিক বৃদ্ধিজনিত সমস্যার পেছনে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি, জিনগত ত্রুটি কিংবা অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ থাকতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

‎রাজুর পরিবার এখন সেই চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য হারিয়েছে। দিনের পর দিন অসহায়ত্বের মধ্যে কাটছে তাদের জীবন। ছেলেকে সুস্থ করার আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থ।পরিবারটির আবেদন, সরকারি সহায়তা, ব্যক্তি উদ্যোগ কিংবা কোনো মানবিক সংগঠনের সহযোগিতা পেলে রাজুর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে। জেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে তাই সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছে পরিবারটি।

বিজ্ঞাপন

‎পড়ুন : অবৈধ বালু ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন