নিজের উপর দুর্বৃত্তের হামলা ঘটনায় হত বিহ্বল হয়ে পড়েছেন খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)’র ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাঃ রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে কুয়েট থেকে পাস করে ১৯৯৩ সালে লেকচারার হিসেবে আমার ডিপার্টমেন্টে যোগদান করি। দীর্ঘ ৩৩ বছর শিক্ষকতা করছি। ইতিপূর্বে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। আমার জানামতে কখনো কারোর কোনো ক্ষতি করিনি। আমার প্রশ্ন আমি কেন টার্গেটে পরিণত হচ্ছি?
২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের মেম্বর। টানা চার বছর ধরে সিন্ডিকেটের মেম্বর। বর্তমান সময়েও আছি। ইতিপূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সিন্ডিকেটেতো সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয়। একক কারো সিদ্ধান্তে হয় না। একটা কমিটিতে বিভিন্ন ধরনের মেম্বর থাকে। এর জন্য যে কেউ আমার উপর ক্ষুব্ধ হবে? কেন এমন হবে, এটা তো বুঝতেছিনা। কাউকে সন্দেহ করতে পারছি না। আমার সাথে কারোর ওই ধরনের শত্রুতা নেই।
তিনি বলেন, যে এলাকায় থাকি সবার সাথে সু-সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে কখনো কোনও দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়নি। কেডিএ’র প্লটে থাকি। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকভাবে এলাকায় কারো সাথে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। এলাকা থেকে কোনো কিছু হয়েছে এটা মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। সেটাও কী কারণে হলো বুঝতে পারছি না। সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটিতে মাঝেমধ্যে থাকতে হয়। সেখানে জ্ঞান, বুদ্ধি দিয়ে আমার কাছে যেটা ভালো মনে হয় বলি। সেটা কারো বিরুদ্ধে যেতে পারে।
তিনি বলেন, মাছুদ সাহেব প্রথমবার ভিসি থেকে সরে যাওয়ার পর ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার জন্য রিকুয়েস্ট এসেছিল। আমি সেটা গ্রহণ করিনি। কারণ ভাইস চ্যান্সেলর পদ আমি এনজয় করি না, এটা পছন্দ করি না। জায়গাটা অসম্মানের। ওইখানে যেয়ে সম্মান হারাতে চাইনা। ওই জায়গাটায় সরকার এবং লোকাল একটা প্রেশার থাকে।
আমার উপর হামলার ঘটনা টেকনোলজি দিয়ে পুলিশ মোটিভ বের করতে পারে। তবে সরকার, প্রশাসন কতখানি সিরিয়াসলি নেবে তারপর নির্ভর করছে। সিসিটিভি ফুটেজ যতটুকু পেয়েছি পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে দিয়েছি।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে মুজগুন্নী নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন প্রফেসর ড. মুহাঃ রফিকুল ইসলাম। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন দুর্বৃত্ত তার ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

