বিজ্ঞাপন

খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অবিস্মরণীয় নাম। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের অপ্রতিরোধ্য কণ্ঠস্বর। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।

বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম নাম খালেদা খানম পুতুল। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্টে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের জলপাইগুড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তার পিতামহ হাজী সালামত আলী, মাতামহ জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। পরবর্তীতে তারা চলে আসেন দিনাজপুরের মুদিপাড়ায়। তাদের আদি পৈতৃকনিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মসজিদে এসব কর্মসূচি পালিত হবে।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকাসহ সারা দেশে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোর ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় হাসপাতালে তার পাশে ছিলেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিও সেখানে ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও চোখের সমস্যাও ছিল। হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত বছরের ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশসহ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারক করেছিল।

চিকিৎসার জন্য গত বছরের আগস্টের শুরুতে তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবাস ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই জয়ী হন। কোনো সংসদীয় নির্বাচনে কোনো আসনে তিনি পরাজিত হননি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : খালেদা জিয়ার জন্মদিন: দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন