মাদারীপুরের শিবচরে রান্না করা খাবার খেয়ে একই পরিবারের ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে নয়ন শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে খাবার খাওয়ার পর পরিবারের একাধিক সদস্য অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে নতুন করে রান্না করা খাবার খেয়েও পরিবারের আরও দুজন অসুস্থ হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে নয়ন শেখের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে রান্না করেন। রান্না শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একে একে পরিবারের সাত সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা ঘরের ভেতর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন। কারও শরীরে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়ার শক্তিও ছিল না।
এ সময় কাজের কারণে ঢাকায় ছিলেন পরিবারের কর্তা নয়ন শেখ। কয়েকবার বাড়িতে ফোন করেও কারও সাড়া না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনকে ফোন করে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে বলেন। বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে তাঁদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান রুবেল নামে তার এক আত্মীয়। পরে রুবেল আত্মীয়-স্বজন স্থানীয়দের ডাকলে তাদের সহযোগিতায় দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে নয়ন শেখ ও তাঁর স্বজনেরা বাড়িতে ছুটে আসেন। হাসপাতালে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা চলার মধ্যেই বাড়িতে থাকা আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদেরও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ নিয়ে একই পরিবারের মোট ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, “সকালে রান্না করে সবাই একসঙ্গে খেতে বসি। খাওয়ার একপর্যায়ে একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি। কারও নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলাম না।”
তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর বাবা নয়ন শেখ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ঘরে থাকা আগের সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। রাতে তাঁর ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু সেই খাবার খাওয়ার পর নয়ন শেখ ও তাঁর ফুপুও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের আরেক সদস্য মনিকা আক্তারের দাবি, “খাবার বা পানিতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিয়েছে কি না, তা আমরা বুঝতে পারছি না। একই পরিবারের এতজন মানুষ একসঙ্গে এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা আতঙ্কিত।”
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ বলেন, আজ বিকেলে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে নিশ্চিতভাবে কারণ বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতজনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, খাবার খেয়ে একই পরিবারের বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়েছে বিষয়টা আমরা শুনেছি কিন্তু এটার কারণটা কি এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

