টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন নিচু এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসম পানিতে তলিয়ে যায়। এর সঙ্গে তীব্র গণপরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল, নিউমার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।
নগরের আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কেও জলজট দেখা গেছে। উড়ালসড়ক থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হয়ে নিচে পড়ায় ওপর ও নিচের উভয় পথেই যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা কার্যালয়ে ১৮৯ মিলিমিটার এবং আমবাগান কার্যালয়ে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রেই সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বৃষ্টির কারণে প্রয়োজনীয় গণপরিবহন না থাকায় নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বেড়েছে। পানিতে অনেক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চালকেরা গাড়ি নিয়ে বের হতে সাহস করছেন না। ফলে অফিসগামীসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নগরের রমনা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কলেজশিক্ষক মহসীন মিঠু এশিয়া পোস্টকে বলেন, সকালে প্রায় এক কিলোমিটার পথ পার হতে হয়েছে হাঁটু পানি পেরিয়ে। এরপর মূল সড়কে গিয়ে কোনো গাড়ি মেলেনি। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে ওঠার সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভেঙে ভেঙে দ্বিগুণ ভাড়ায় রিকশায় গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।
পড়ুন: সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
আর/


