মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পুলিশ পরিচয়ে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহীর গতিরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন কেরে নেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা আলমগীর (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় হরিরামপুর থানায় কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া কালভার্ট সংলগ্ন দানিস্তপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তায়েফ জানান, তিনিসহ দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দুজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গতিরোধ করেন। এ সময় তারা মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যান এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। আমাদের কাছে অবৈধ কোনো কিছু আছে কি না তা তল্লাশির কথা বলে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়।
তিনি আরও জানান, এতে বাধা দিলে ওই দুই ব্যক্তি সঙ্গে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে পথচারীরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে তারা মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে নগদ টাকা না দিয়েই চলে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তায়েফ ও তার বন্ধুরা ওই দুজনের পিছু নেন। একপর্যায়ে তাদের হরুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দেখতে পান। সেখানে উপজেলার কর্মকারকান্দি বয়ড়া গ্রামের আলমগীরের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে হরিরামপুর থানার এএসআই এর সহযোগী হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় স্থানীয়রা আলমগীরকে আটক করলে সঙ্গে থাকা হরিরামপুর থানার এএসআই সোহেল সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এএসআই সোহেল রানার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানায় কর্মরত একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সোহেলকে ইতোমধ্যে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, “একজনকে আটক করে মারধর করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে শুনলাম, সে এএসআই সোহেল রানার সোর্স। সোহেল রানার বিরুদ্ধে যেহেতু কথা উঠেছে, তাই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : খুলনা প্রেসক্লাব মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন


