বিজ্ঞাপন

অবশেষে আলোচিত সেই জুনায়েদ বিয়ে করলেন

আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ অবশেষে বিয়ে করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। তবে নতুন বিয়ে কোথায় করেছেন বা কনেপক্ষের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। একাধিক সূত্রের দাবি, আগের বিয়ের আয়োজন হওয়া কনের বাড়ির কাছাকাছি এলাকাতেই নতুন করে বিয়ে করেছেন জুনায়েদ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বিয়ের আসর থেকে বরকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে বর ও কনেপক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিল।

জানা যায়, জাপানপ্রবাসী কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ সোমবার দুপুরে আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলতলা গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়েকে বিয়ে করতে যান। বিয়ের সামাজিকতা চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। বরযাত্রীদের খাওয়াদাওয়াও প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল।

স্থানীয়ভাবে ‘খদর’ নামে পরিচিত বরপক্ষের বিশেষ খাবার পরিবেশনের সময় খাসির মাংস না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি করেন বলে কনেপক্ষের অভিযোগ। এ নিয়ে একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে কনেপক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। স্বজনেরা বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন।

কনের বাবা শফিক মিয়া জানান, একপর্যায়ে জুনায়েদ তাঁর ভাইকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি বিয়ে করবেন না; প্রয়োজন হলে তাঁর ভাই যেন ওই মেয়েকে বিয়ে করেন। এমন কথাবার্তা শুনে কনের বাবা সিদ্ধান্ত নেন, এমন ছেলের কাছে মেয়ের বিয়ে দেবেন না। পরে বর ও বরযাত্রীদের চলে যেতে বলা হয়। বিয়ের জন্য নিয়ে আসা জিনিসপত্রও তাঁদের ফেরত দেওয়া হয়।

তবে নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ ভিন্ন বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, খাসির মাংস নিয়ে নয়, মূল বিরোধ ছিল কাবিনের টাকা নিয়ে। তাঁর ভাষ্য, বিয়ের আসরে খাওয়াদাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি ও তাঁর পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

জুনায়েদ আরও দাবি করেন, পরে তাঁকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর রাজি হননি। নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও সম্মানহানির চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে কনের বাবা শফিক মিয়া অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ছেলেটা একটা আপত্তিকর কথা বলে। খাসি কেন করা হয়নি, সেটা নিয়ে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে তার ভাইকে বলে যেন বিয়ে করে। এ অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিই, এমন ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেব না। আমরাই বরকে বের করে দিই।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আশিক মিয়াও বলেন, খদরে খাসির মাংস না থাকা নিয়ে প্রথমে ঝামেলা হয়। পরে জুনায়েদ আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে কনের বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে বললেও তিনি রাজি হননি। এরপর কনের বাবা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

ঘটনার কয়েক দিন পর সেই জুনায়েদেরই নতুন করে বিয়ের খবর সামনে এসেছে। ফেসবুকে বিয়ের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে নতুন বিয়ের বিষয়ে জুনায়েদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পড়ুন : হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল: গবেষণা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন