বিজ্ঞাপন

হ্যালো ডিসির মানবিক উদ্যোগে বদলে গেল মুনিমের জীবন

১৫ বছরের মার্চেন্ডাইজিং ও মার্কেটিং পেশার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ অসুস্থতা ও চাকরি হারানোয় থমকে যায় সাভারের ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ আল মুনিমের জীবনসংগ্রাম। তিন মাসের কঠিন অসুস্থতা কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরলেও চাকরিচ্যুত হন তিনি। তিন সন্তান ও পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান মুনিম। সংসার চালানো যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন শেষ ভরসা হিসেবে ঢাকার জেলা প্রশাসনের জনবান্ধব প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যালো ডিসি’তে আবেদন জানান তিনি।

১৯ আগস্ট (বুধবার) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান মুনিম। আর সেই সাক্ষাৎই যেন বদলে দেয় তার জীবনের গল্প।

কাকতালীয়ভাবে একই সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের সাক্ষাৎকারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এম এম ইন্টারন্যাশনালের সিইও মশিউর রহমান। জেলা প্রশাসকের কক্ষে মুনিমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তার দীর্ঘদিনের কর্মঅভিজ্ঞতা, অসুস্থতা, চাকরি হারানো এবং পরিবার নিয়ে কঠিন বাস্তবতার কথা জানতে পারেন তিনি।

মুনিমের সংগ্রামের গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যায় উদ্যোক্তা মশিউর রহমানের। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই তিনি মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। নিজের প্রতিষ্ঠান এম এম ইন্টারন্যাশনালে মুনিমকে উপযুক্ত পদে চাকরির প্রস্তাব দেন তিনি। একজন শিল্পোদ্যোক্তার এমন তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পরে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই মুনিমের হাতে নতুন চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষরা যদি মানবিক কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে অনেক মানুষের সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতাও অসহায় মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।’

চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে মুনিমের চোখেমুখে ফিরে আসে স্বস্তি ও আশার ছাপ। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর নতুন করে পরিবারকে ঘিরে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার।

একটি আবেদন, একটি মানবিক সাক্ষাৎ এবং একজন শিল্পোদ্যোক্তার তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় মুনিমের জীবনে খুলে গেল নতুন সম্ভাবনার দরজা। ‘হ্যালো ডিসি’ শুধু একটি সেবা প্ল্যাটফর্ম নয়, মানুষের সংকটে পাশে দাঁড়ানোর একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে যে ভূমিকা রাখতে পারে, মুনিমের ঘটনা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ২১ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ: চিফ হুইপ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন