বিজ্ঞাপন

চোখের সামনেই গ্রাম গিলে খাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, কান্নায় ভাসছে লক্ষীপুর

চোখের সামনে নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলের মাঠ ও চলাচলের সড়ক। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় কেউ গাছ কাটছেন, কেউ নিজের হাতে গড়া ঘর ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে নেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের ভয়াল ভাঙনে এমনই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

গত দুই-তিন দিনে নদীর ভাঙনে কয়েকটি বসতঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি অংশও পড়েছে ভাঙনের কবলে। এতে নদীতীরের শত শত মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে আরও বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকার ভাটির অংশে প্রায় ১২০ মিটার তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে উজানের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি সংরক্ষণের আওতায় না আসায় সেখানেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে চলে গেছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন বহু পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে ভাঙনের ক্ষত। কোথাও মাটি ধসে পড়ছে নদীতে, কোথাও বসতভিটার শেষ চিহ্নটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি ও গাছপালা সরিয়ে নিচ্ছেন। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী মানুষের।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, পাকা সড়ক এবং সম্প্রতি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা তীর সংরক্ষণ এলাকাও। এতে শুধু বসতভিটা নয়, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ভাটির অংশে তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলেও উজানের ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। ফলে উজানের ওই অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে এ এলাকার শত শত পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়ে ভূমিহীন-গৃহহীন হয়েছে। প্রতিবছর নদী তার গতিপথ বদলে নতুন নতুন জনপদ ও কৃষিজমি গ্রাস করছে। ফলে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকলে সামনে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নকিবুজ্জামান বলেন, ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভাঙনের পর সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ বা বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দিলে হবে না। নদীর গতিপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি টেকসই তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে একের পর এক বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারিয়ে যেতে পারে।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে লক্ষীপুরের মানুষের কাছে এখন নদী শুধু একটি প্রাকৃতিক জলধারা নয়, বরং প্রতিদিনের আতঙ্কের নাম। নদী কেড়ে নিচ্ছে তাদের ঘর, জমি, জীবিকা আর বহু বছরের সঞ্চিত স্বপ্ন। তাই নদীতীরের মানুষের একটাই আকুতি—আর কত ঘরবাড়ি ও কতটুকু জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হলে মিলবে এই ভাঙনের স্থায়ী সমাধান?

পড়ুন:ছাতকে ২০ মাসের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন