সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে কথিত মিছিল ও নাশকতামূলক কার্যক্রমের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় দায়ের হওয়া আলোচিত মামলায় এবার মুখ খুলেছেন ১৯ নম্বর আসামি শাহিন মিয়া। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বম্ভরপুর থানার বিভিন্ন কাজে মোটরসাইকেল চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা করে এলেও কোনো কারণ ছাড়াই তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর থানার মামলা নং-২৪ (তারিখ: ২০ আগস্ট ২০২৬) বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১৫(৩) ও ২৫ডি অনুযায়ী রুজু করা হয়েছে। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত করছেন থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আকতার হোসেন।
মামলার বাদী সোহাগ তালুকদার, যিনি নিজেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ১ নম্বর সলুকাবাদ ইউনিয়নের রুসুলপুর এলাকায় জামিয়া আবু হুরাইরা (রাঃ) এতিমখানা মাদ্রাসা সংলগ্ন বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে মিছিল করেন।
বাদীর অভিযোগ, মিছিলে “জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার ও ক্যাপ ব্যবহার করা হয়। তার দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত জব্দ করে।
মামলায় বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. তৈয়বুর রহমান, মেহেদী হাসান সাকিব, নোমান বখত পলিন, দীপঙ্কর কান্তি দে, সাফায়েত জামিল, খালেদ তালুকদারসহ আরও কয়েকজন। ১৯ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা এলাকার শাহিন মিয়া।
মামলার ১৯ নম্বর আসামি শাহিন মিয়া বলেন, তিনি একজন পেশাদার মোটরসাইকেল চালক এবং গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিশ্বম্ভরপুর থানার বিভিন্ন কাজে পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেলে আনা-নেওয়া করে সহযোগিতা করে আসছেন।
তার ভাষ্য, “আমি একজন মোটরসাইকেল ড্রাইভার। থানার বিভিন্ন কাজে সব সময় পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছি। দুই-তিন বছর ধরে পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেলে নিয়ে গিয়ে সহযোগিতা করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বম্ভরপুর থানার সাবেক ওসি শাহিন মিয়া বদলি হওয়ার আগে তার নাম এই মামলার আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়।
“আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই,”—বলেন শাহিন মিয়া। জব্দ তালিকায় যা আছে মামলার সঙ্গে সংযুক্ত জব্দ তালিকা অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ফেস্টুন/ব্যানার এবং চারটি ক্যাপ জব্দ করেছে। নথিতে দাবি করা হয়েছে, ব্যানারে “শিক্ষা শান্তি প্রগতি”, “শেখ হাসিনা আইতাছে”, “সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ”সহ বিভিন্ন লেখা ছিল এবং ক্যাপগুলোতে “রক্তাক্ত আগস্ট” ও “সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ” লেখা ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, বিশ্বম্ভরপুর থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. শাহিন মিয়া রেকর্ডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই (নিরস্ত্র) মো. আকতার হোসেনকে।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার বর্তমান কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া শাহিন মিয়ার অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ওসি শাহিন মিয়ারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পড়ুন : শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষম করে তুলতে হতে শিক্ষা গড়তে হবে
সা/


