মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় যুবদল নেতাসহ ১১ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার হড়িনা ঘাট সংলগ্ন মাঝ পদ্মায় হামলার ঘটনায় ১১ জনের মত আহত হয়। আহতদের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেয়া হলে আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলার শিকার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে চ্যানেল চার্জের টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ৩ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন হামলায় আহতরা।
হামলায় গুরুতর আহত হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমানসহ কয়েকজন জানান, পদ্মানদীতে চলাচলকৃত বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের সময় তিনটি স্পিডবোড যোগে এসে প্রথমে ফাকাগুলি করে আমাদের ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে হেলমেট ও মাস্কপরা ৩০/৪০ জন দেশিয় অস্ত্র, হকিস্টিক,লোহার রড, কাঠের বাটাম দিয়ে পেটাতে শুরু করে। এরমধ্যে তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলেও নিয়ে যায়।
আহত সজল জানান, সন্ত্রাসী বাহিনী এসে প্রথমে আমাদের ঘিরে ধরে মুকুলকে খোজ করেন। মুকুলকে না পেয়ে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। আমদের সাথে থাকা কয়েকজনকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয়। আর তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। মারধরে আহত শাহ আলম, নাসির,লোকমান, মিনার চৌধুরী, সাদ্দাম হোসেন, মো: শামিম,সুজন হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন সেতু, হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর, যুবদল নেতা সজল আহমেদ, আজম।
পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসার অর্পিতা সাহা জানান, আহত অবস্থায় ১১ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
হরিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবজাল হোসেন জানান, পদ্মা নদীতে চ্যানেল চার্জ আদায় কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পড়ুন : দোহারে ফুটবল খেলা শেষে পানিতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু


