বিজ্ঞাপন

অবৈধ মহিষ বৈধতা প্রমাণে ভুয়া রসিদ, বিজিবির তদন্তে আসল তথ্য

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে আনা মহিষকে বৈধ পশু হিসেবে দেখাতে ভুয়া রসিদ ব্যবহারের ঘটনা উদঘাটন করেছে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)।

বিজ্ঞাপন

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) ও পুলিশের একটি যৌথ দল গত ১৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বড়লেখা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের গৌরনগর এলাকায় হিফজুর রহমানের গোয়ালঘরে গিয়ে ১৪টি মহিষ পাওয়া গেলে মহিষগুলো জব্দ করা হয়।

জব্দের পর মহিষগুলোর বৈধতা প্রমাণের জন্য দুটি রসিদ বিজিবির কাছে উপস্থাপন করা হয়। তবে রসিদ দুটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে বিজিবি।

তদন্ত চলাকালীন এবং মহিষগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনজন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ১৪টি মহিষ রাখা হয়।

পরে বিজিবি চান্দগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫৫ ঘন্টা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এতে রসিদে উল্লেখ করা তারিখ ও রসিদে থাকা বিক্রয়স্থানে মহিষ কেনাবেচা বা পরিবহনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে রসিদে উল্লেখিত বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তারা এসব মহিষ বিক্রি করেননি। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে রসিদ দুটি ভুয়া নিশ্চিত হওয়ার পরে ২১ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেলে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বড়লেখা থানা পুলিশের সহযোগিতায় মহিষ উদ্ধারে অভিযানে গিয়ে ১৪টি মহিষের পরিবর্তে মাত্র ৫টি মহিষ হিফজুর রহমানের বাড়ির পাশে একটি ক্ষেত থেকে পাওয়া যায়।

পরে ক্ষেত থেকে একটি বড় মহিষসহ ৫টি মহিষ উদ্ধার করা হয়। তবে জব্দ করা ১৪টি মহিষের মধ্যে বাকি ৯টি মহিষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, হিফজুর রহমানের কথায় মহিষগুলো তার বাড়িতে রাখা হয়েছিল। তিনি এ ধরনের প্রতারণার বিষয়টি জানতেন না। নিখোঁজ মহিষগুলো উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে এবং উদ্ধার করে সেগুলো বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, মহিষগুলোর বৈধতা প্রমাণে উপস্থাপন করা রসিদগুলো যাচাই-বাছাই করে ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর মহিষ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা ১৪টি মহিষের মধ্যে ৫টি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মহিষগুলো উদ্ধারে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ মহিষগুলোর সন্ধানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুয়া রসিদ ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু পাচার, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিপি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে

জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) ও পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, জালিয়াতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কার্যকর পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা।

পড়ুন : নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন