জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন, অব্যবস্থাপনা ও নিরপত্তাহীনতায় রেল সেবা নিয়ে বিপাকে যাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উদাশিনতায় ঘটতে পারে বড় ধরনের র্দুঘটনা। দীর্ঘ ৮ বছরের বেশি সময়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলছে রাজশাহীর নন্দনগাছী স্টেশন।
১৯২৯ সালে রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী স্টেশনটি স্থাপিত হয় নিমপাড়া ইউনিয়নের বরকতপুর এলাকায়। স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি। নিয়ম অনুযায়ী এই স্টেশনে স্টেশনমাস্টার, টিকিট মাস্টার, পোর্টারম্যান, পয়েন্টসম্যান, গেটম্যানসহ জনবল ছিল ১২ জন। তবে বন্ধ হওয়ার পরে পোর্টারম্যান পদে একজন কর্মরত রয়েছেন। তারও দেখা পাওয়াটা স্বপ্নের মতো।
এই স্টেশনে যাত্রীদের নেই বসার ব্যবস্থা ও গনসৌচারগার, নেই নিরাপত্তা বহিনীর কোন সদস্য। অব্যবস্থাপনায় রেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিনের পর দিন অরক্ষিত অবস্থায় পরে আছে। পরিত্যাক্ত অবস্থায় নষ্ট হয়েছে অনেক প্রয়োজনিয় যন্ত্রাংশ। নিরাপত্তা কর্মী নাথাকার কারনে হারিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি।
স্থানীয় ছাড়া বহিরাগত কেউ বুঝতে পারবে না, এটা একটি রেলওয়ে স্টেশন। আগাছা আর ঝোপঝাড়ে ঢেকে রয়েছে এই স্টেশন। দিনের আলোয় কিছু পথচারীর আনাগোনা দেখা গেলেওে রাতের আধাঁরে জমে মাদকের মেলা। পরিত্যক্ত ভবনের ভিতরেই চলে রমরমা মাদকের ব্যবসা। স্থানীয় কিছু দখলবাজাদের দাপটে দখলে রয়েছে রেলের অধিকাংশ জমি। রাজনৈতিক দল বদলে চলে রেলের সরকারী জমি দখলের খেলা। এমটায় অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কিছু সচেতন ব্যাক্তি।
শনিবার দুপুরে স্টেশনের নানা পেশার পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় থেকে এই স্টেশনের আন্তরগর ট্রেনসহ অন্যান্য লোকাল ট্রেন গুলো স্টোপেজ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে স্থানীয়রা। জাতিয় নির্বাচনের পূর্বে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও চারঘাট-বাঘার এমপি আবু সাইদ চাঁদসহ স্থানীয়রা বেশ বড় ধরনের আন্দোলন করেছিলেন। ওই সময় থেকে আশার আলো বুনছে স্থানীয়রা। তবে এখনো সেই ভাবে প্রস্তুত হয়নি এই স্টেশনটি। রেল সেবা অব্যবস্থাপনার কারনে বিভন্ন বয়সের নারী পুরুষ ট্রেনে উঠতে অনেক সময় পড়ে যায়। সর্বপরি যত দ্রুত সম্ভব এই স্টেশনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই স্টেশনে লোকাল ট্রেনগুলো থামত। বিক্রি হতো না কোন টিকিট। তবে স্টেশনটি পূনরায় চালু ও ট্রেন থামানোর দাবিতে গেল কয়েক বছর থেকে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে একজন মাস্টারকে স্টেশনে প্রদায়ন করেছে রেলওয়ে। স্টেশনের আউটলাইনের কাজ শেষ পর্যায়ে। অন্য লোকাল ট্রেনগুলোর সঙ্গে থামবে রাজশাহী-ঈশ্বরদীর মধ্যে চলাচল করা ‘ঈশ্বরদী কমিউটা’র ট্রেন। এছাড়া স্থানীয় (রাজশাহী-৬ আসন) সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ডিও লেটারও দেন স্টেশনটি চালুর জন্য।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে- বর্তমানে স্টেশনটিতে মহানন্দা এক্সপ্রেস, রাজশাহী মেল, লোকাল সিক্স ডাউন, ফিপ্টিন আপ ও ডাউন ট্রেন থামত। স্থানীয়দের চাহিদার প্রেক্ষিতে নতুন করে ঈশ্বরদী কমিউটার ট্রেন থামবে। এরফলে এই অঞ্চলের যাত্রীদের রাজশাহী-পাবনাসহ অন্য জায়গায় যাওয়াতের সুবিধা হবে।
মুঠোফোনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পিডব্লিউআই বাকিতুল্লাহ বলেন, নন্দনগাছী স্টেশনে কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে। এই স্টেশনের কার্যক্রম চালু হবে। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল আওয়াল জানান, ইতোমধ্যে একজন স্টেশন মাস্টারকে প্রদায়ন করা হয়েছে। স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্য লোকাল ট্রেনের সঙ্গে এখন থেকে ঈশ্বরদী কমিউটার ট্রেন থামবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ডিও লেটার দিয়েছিলন স্টেশনটি চালুর জন্য।
রেলওয়ে পশ্চিম প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুম মিডিয়ার সমানে কোন বক্তব্য দিতে সম্মতি প্রকাশ করেননি। তবে তিনি বলেন, জিএম স্যার আপনাদের প্রশেরœ উত্তর দিবেন।
পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা
আর/


