ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার দেখল বাংলাদেশ। ডারউইনে যেখানে প্রতিটি সেশন দাপট দেখিয়েছিল টাইগাররা, ম্যাকাইতে কোনো পাত্তাই পায়নি। দুই ইনিংসেই অলআউট হয়েছে দুই অঙ্কের দলীয় সংগ্রহে। এ যেন মুদ্রার একদম এপিঠ আর ওপিঠ।
ম্যাকাইতে ম্যাচ দুই দিনেও নিয়ে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথম দুই দিনের আগে ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। এমন লজ্জাজনক হারের পর স্বাভাবিকভাবেই বেশ হতাশ টাইগার অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। তবে এই সিরিজে পাওয়া শিক্ষা, দলগত পারফরম্যান্স এবং ডারউইনের বীরত্বের কারণে বেশ খুশি তিনি।
দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘হতাশাজনক ব্যাটিং। তবে টস অনেক বড় ফ্যাক্টর ছিল। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন ছিল, তিন ইনিংসে ব্যাট করাই কঠিন ছিল। তবে কোনো অজুহাত দিতে চাই না। আমরা বাজে ব্যাট করেছি, তারাও অনেক ভালো বল করেছে। সামনে আমাদের টেকনিক্যাল জায়গাতে অনেক উন্নতি করতে হবে।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও নিজ দলের পাশে দাঁড়ালেন অধিনায়ক। জানালেন পরিস্থিতি বিচারে খুব একটা খারাপ করেনি টাইগাররা, ‘এখানে আমরা ২৩ বছর পরে এসেছি। এমন কন্ডিশনে এই বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এত বছর পর খেলা সহজ নয়। যদি আমরা নিয়মিত আসতে পারতাম তাহলে খেলোয়াড়রা মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত। ৯০% প্লেয়ার এখানে আগে খেলেনি। ফলে তারা জানে না কীভাবে মানিয়ে নিয়ে এমন বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলতে হয়। আমরা চাই এমন কন্ডিশনে নিয়মিত খেলতে, ২৩ বছর বা ২৫ বছর পরপর নয়।’
‘প্রথমবার ২ দিনে খেলা শেষ হয়েছে এরকম নয়। এখানে অনেকবারই এভাবে ২ বা ৩ দিনে খেলা শেষ হয়েছে। এটা হতেই পারে। দল হিসেবে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে যদি সামনে আগাতে চাই। ব্যাটিংয়ে আমাদের ঠিকভাবে আগাতে হবে, কারণ বোলাররা ভালো করে যাচ্ছে। আমাদের আরও শিখতে হবে যে কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে যেতে পারি। এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে আমাদের। এই অভিজ্ঞতা সামনে আগাতে কাজে দেবে।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পেস এন্ড বাউন্স অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে দেবে। তাদের বোলিং আক্রমণ দারুণ মানসম্পন্ন ছিল। চেষ্টা করব উন্নতি করতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে।’
সিরিজ জিততে না পারলেও সতীর্থদের চেষ্টা এবং পেসারদের উন্নতিতে বেশ খুশি শান্ত। দল হিসেবেও তারা বেশ ছন্দে আছেন বলে জানান তিনি, ‘অনেক খুশি। পেস বোলিং আক্রমণ, এই জায়গায় আমরা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছি। বাংলাদেশের পেসাররা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে, তারা দারুণ করছে। হাসান-শরিফুল-তাসকিনরা যেভাবে বল করেছে, সব পেসার যেভাবে বল করছে গত কয়েক বছরে, আমি অনেক খুশি। এখানে এবং বাংলাদেশেও তারা অনেক ভালো করেছে। সব কাজ ঠিকভাবে করছে। ভালো ছন্দে আছে তারা। অধিনায়ক হিসেবেও আমি বেশ খুশি।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

