উচ্চশব্দের মাইকের কানফাটা আওয়াজে অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে সৈয়দপুর শহরের বাসিন্দারা। দোকান উদ্বোধন, পণ্য বিপণন, খেলাধুলার প্রচার কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান—কথায় কথায় শহরজুড়ে বাজানো হচ্ছে জোড়া (ডাবল) মাইক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনবরত এই শব্দ তাণ্ডবের কারণে তীব্র শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, পরীক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মাইকিংয়ের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও প্রতিনিয়ত উচ্চশব্দে হর্ন স্পিকার বাজিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু প্রচলিত আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এসব কর্মকাণ্ড।
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো বাণিজ্যিক বা জনসমাগমমূলক প্রচারণার জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বা থানা পুলিশের লিখিত অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সৈয়দপুরে প্রতিনিয়ত অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাইকিং করা হলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
শহরের এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “একটি নতুন দোকান খুললেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জোড়া মাইকে সাউন্ড বাজানো হয়। সাধারণ বিষয় নিয়েও সারাদিন গাড়ি ঘুরিয়ে মাইকিং চলে। জরুরি তথ্য বা সংবাদ প্রচার আলাদা বিষয়, কিন্তু বাণিজ্যিক কাজের শব্দদূষণ এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”
অভিজ্ঞ মহলের মতে, অননুমোদিত ও অতিরিক্ত মাইকিং বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের দ্রুত নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারাহা ফাতেহা তাকমিলা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না। তবে তথ্যটি জানতে পেরেছেন এবং অননুমোদিত মাইকিং বন্ধে খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, অননুমোদিত মাইকিং ও শব্দদূষণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এ বিষয়ে দ্রুত যৌথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : মিরপুরে কর্তব্যরত অবস্থায় গাড়ির চাপায় ওয়াসাকর্মী নিহত
সা/


