মাগুরার বহুল আলোচিত ৮ বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গেলো বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। ওই রাতেই বোনের শ্বশুর হিটু শেখের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রেফার্ড করে ঢাকায় নেওয়া হয়। সবশেষে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা আয়েশা আখতার বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। তবে মামলার অপর ৩ আসামি-শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ছোট ভাই ও সজীবের মা জাহেদা বেগমকে এই মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) উচ্চ আদালতে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আছিয়ার পরিবারসহ মাগুরার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা এখনও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছেন না।
আছিয়ার মা আয়েশা আখতার বলেন, আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি চাই হিটু শেখের ফাঁসির রায় বহাল থাকুক এবং দ্রুত তা কার্যকর করা হোক। সঠিক তদন্ত ছাড়া যদি সে ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে। আমার মনি আছিয়ার আত্মার শান্তির জন্য আমি এই রায়ের কার্যকর চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেড় বছর হয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়নি। হিটু শেখের ছেলে সজীবকে এখনো আমাদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখি। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আছিয়ার নানী বলেন, আমরা যদি সুষ্ঠু বিচারই না পাই, তাহলে আমার নাতিকে ফিরিয়ে দিক। নাতিকে তো আর ফিরে পাব না। তাই অন্তত আমরা ন্যায়বিচার চাই।
স্থানীয়রা জানায়, আছিয়ার মতো একটি শিশুর সঙ্গে এমন নির্মম ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ মামলায় সঠিক বিচার নিশ্চিত হলে মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। আছিয়ার ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, অপরাধীরা যদি আইনের ফাঁকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা, চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘিরে সুনসান নীরব আছিয়ার গ্রামের বাড়ি মাগুরা শ্রীপুরের জারিয়া গ্রাম। নাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছোট্ট একটি ফাঁকা বাড়িতে আছিয়ার মা ও নানীকে দেখা গেলো। অপেক্ষা ছিলো কখন রায়ের খবর আসে। রায়ের দিন পিছিয়ে যাওয়ার কারণে আছিয়ার পরিবারের লোকজন হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রধান আসামি হিটু শেখের পরিবারের দাবি, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
হিটু শেখের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আইনের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা আশা করি, সবকিছু সঠিকভাবে তদন্ত ও বিচার-বিশ্লেষণ করেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
আছিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পরবর্তী রায় ঘোষণার তারিখ ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেছে আদালত। তবে রায় ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
পড়ুন :রোহিঙ্গা সংকটের দশ বছরেও অনুকূল নয় প্রত্যাবাসনের পরিবেশ
সা/


