বিজ্ঞাপন

৪৭ বছর পর ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সিরিয়াকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র

কয়েক দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসী তালিকা’ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে সিরিয়াকে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামকেও (এইচটিএস) এ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আরও একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।’

সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, আল-কায়েদার একটি শাখা সংগঠন হিসেবে পরিচিত এইচটিএসের শীর্ষ নেতা ছিলেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর নেয়া হলো। ওই হামলার প্রেক্ষিতে সিরিয়ার অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র তুরস্ক কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হামলার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়ায় নিযুক্ত দূত টম ব্যারাক গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ওই হামলাকে ‘গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের প্রতিক্রিয়া থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, ইসরায়েল হয়তো তুরস্ককে যুদ্ধে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে সিরিয়াকে কালো তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ব্যাপারে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেন। ঘোষণাটি ছিল তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তার সফরের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সেখানে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ফাঁকে তিনি শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সেই বৈঠকটি শারার জন্য একটি বিজয় ছিল, কারণ এক বছরেরও বেশি সময় আগে সৌদি আরবের রিয়াদে ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয় এবং নভেম্বরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওভাল অফিসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে কালো তালিকাভুক্ত করে ওয়াশিংটন। ওই সময় দেশটি বাশার আল-আসাদের বাবা হাফেজ আল-আসাদের শাসনাধীন ছিল। শীতল যুদ্ধের সময় সিরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পেয়েছিল। যদিও প্রবীণ আসাদ যুক্তরাষ্ট্র এবং এর শীতল যুদ্ধের শত্রু উভয়ের সাথেই যোগাযোগ খোলা রাখার জন্য পরিচিত ছিলেন। লেবানন এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তার মতবিরোধ তৈরি হয়।

শারাকে ট্রাম্পের দ্রুত সমর্থন জানানো গত বছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পররাষ্ট্রনীতিগত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শারাকে তাকে ‘চমৎকার, অত্যন্ত সম্মানিত এবং কঠোর’ বলে অভিহিত করেছেন।

সোমবারের এই তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি এসেছে জুন ২০২৫-এ ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ থেকে, যেখানে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নির্দেশ দেয়া হয়। এতে শারার অধীনে সিরীয় সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ এবং দামেস্কের দেয়া আনুষ্ঠানিক আশ্বাসের বিষয়ে তার মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়।

রুবিও বলেন, ‘গত এক বছরে সিরিয়া সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্লোবাল কোয়ালিশন টু ডিফিট আইএসআইএস’-এ যোগদান এবং আইএসআইএস, আল-কায়েদা, হিজবুল্লাহ ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়ার জন্য অভিযান পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিরিয়ার এসএসটি এবং এইচটিএসের এসডিজিটি হিসেবে স্বীকৃতি প্রত্যাহার সিরিয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের শেষ প্রধান বাধাগুলো দূর করে এবং সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনঃএকত্রীকরণে সহায়তা করে।’

পড়ুন : ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন