বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কিছুটা কমেছে। দিনের শুরুতে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং ডলারের দর শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৬৩৪ দশমিক ৭৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে স্বর্ণের দাম ১৪ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়।

সাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মঙ্গলবার স্বর্ণের দর কমার প্রধান কারণ মুনাফা তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের দরপতনের পর ডলারের দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ফেরার যে কারণগুলো রয়েছে, সেগুলো এখনো বহাল আছে। আগামী কয়েক মাসেও এসব কারণ স্বর্ণের দামকে সমর্থন দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের বাইব্যাক কার্যক্রমে তারল্য সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণার পর ডলারের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছিল। তবে মঙ্গলবার ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। এতে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

বাজার এখন বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স (পিসিই) মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে। পাশাপাশি শুক্রবার বার্ষিক জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম বক্তব্য থেকেও সুদের হার সম্পর্কে তার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করবেন বিনিয়োগকারীরা।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ এবং অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন ট্রেডাররা। সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।

এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ৪৬ দশমিক ৭ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। গত ১০ মাসের মধ্যে এক সপ্তাহে এটি ছিল সর্বোচ্চ চাহিদা।

অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, নেমে এসেছে ১ হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৭ ডলারে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৩২৪ দশমিক ৫৬ ডলার। সূত্র: রয়টার্স

পড়ুন : ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন