বিজ্ঞাপন

ট্রলার ডুবি জীবিত উদ্ধার ৮, নিখোঁজ ৫, পরিবারের দাবি বেঁচে নেই কেউ

বঙ্গোপসাগরের হাইরের চর সংলগ্ন এলাকায় বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে ১৩ জেলেসহ মাছ ধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১৩ জেলের মধ্যে ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ জন জেলে। নিখোঁজদের পরিবারের দাবি তারা সকলেই ট্রলারের মধ্যে আটকা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি ট্রলার মালিক সমিতি কিংবা কোস্টগার্ডের কোন কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার দুপুরের পর মাছ ধরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এফবি বরকত ট্রলারের জেলেরা। হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় তাদের ট্রলারটি। এসময় ট্রলারের ব্রিজের মধ্যে ঘুমাচ্ছিলেন ৭ জেলে। ৭ জেলের মধ্য থেকে দুইজন বের হতে পারলেও ৫জন বের হতে পারেনি। এসময় পাশ্ববর্তি বিভিন্ন ট্রলারের জেলেরা এফবি বরেকতের ৮ জেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ থাকে ৫ জেলে। ট্রলার মালিক পরিবারের দাবি নিখোঁজ ৫ জনই মৃত্যু বরণ করেছে। তাদের লাশ উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হচ্ছে। এঘটনায় জেলেদের পরিবারগুলোতে বইছে শোকের মাতম।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন, পাথরঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে কাওসার (৩০), ইদ্রিসের ছেলে বেল্লাল (২২), চুন্নু মাঝির ছেলে ইব্রাহিম (২৮), জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে নুর আলম (৩৭), শাহাদাত মাঝির ছেলে সাইকুল ইসলাম (৩৩)।
ট্রলার মালিক বাদল মোল্লার বরাতে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মোল্লা জানিয়েছে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর। তার দাবি, বাদল মোল্লা আমাকে সকালে মোবাইলে কল দিয়ে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ নিয়ে সমুদ্র থেকে রওনা হয়েছেন।

তবে বিকালে তিনি আবার বলেন, সবশেষ তিনি জানতে পেরেছেন বিকাল চারটার দিকে উদ্ধারকারী ট্রলারটি ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছে পৌছেছে এবং একজনের লাশ দেখতে পেয়েছে। তবে লাশটি কার সেটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

এই ট্রলারে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাড়িটানা গ্রামের মো. কাওসার। কাওসারের পরিবারের দাবি তাদের সন্তান আর বেঁচে নেই। কাওসারের চাচা হারুন জানান, ট্রলার মালিক তাদেরকে ফোনে জানিয়েছেন কাওসারের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এরপর থেকে তাকেও আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে জীবন ও মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে ফিরে আসা জেলেদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। সাগরে যখন ঝড় শুরু হয় তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ট্রলারের ব্রিজের ভিতরে ঘুমিয়ে ছিলেন ৭ জেলে। বাকিরা বাইরে ছিলেন। ট্রলারটি যখন ডুবে যায় প্রাণপণ চেষ্টা করে দুইজন বের হতে পারলেও বাকিরা আটকা পড়ে ব্রিজের মধ্যেই। তাদের দাবি যদি তারা বের না হতে পারলে কারোই বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে সবাই যেন জীবিত ফিরে আসতে পারে আল্লাহর কাছে এমনটাই প্রার্থনা ফিরে আসা জেলেদের।

ফিরে আসা জেলে মনোমথ বলেন, আমিও ব্রিজের মধ্যে ঘুমিয়েছিলাম। পানি ঢুকে যখন তলিয়ে গেলো তখন দিক বেদিক হয়ে কোন মতে বের হতে পারি। উপরে উঠে ভাসমান অবস্থায় দুই ঘন্টা সাতরে আরেকটি ট্রলারের নাগাল পেলে তারা উদ্ধার করে আমাকে নিয়ে আসে।

জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী সকালে বলেন, জেলেদের উদ্ধারে যাওয়া ট্রলার দুটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা নেটওয়াকের বাহিরে রয়েছে। জেলেদের লাশ উদ্ধারের খবর শোনা যাচ্ছে তবে আমরা নিশ্চিত নই।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, মরদেহ পাওয়া গেছে এমন খবর বিভিন্নজনের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

একই বক্তব্য পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীমের। যে স্থানে মরদেহ আনা হবে বলে জানানো হয়েছে, আমি নিজেও সেখানে গিয়েছিলাম। পুলিশের সদস্যরা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করতে পারিনি।
এবিষয়ে ভোলা কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা ও স্টেশন কমান্ডারের মুঠোফোনে কল করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

পড়ুন:নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন