মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়া ৩৭০ জন উপকারভোগীর মাঝে নিম্নমানের, পোকাযুক্ত ও পচা চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে চালের মান নিয়ে উপকারভোগীদের অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন উপকারভোগীর দেওয়া চালের মধ্যে পোকা, কালচে ও নষ্ট দানা রয়েছে। চাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা।
তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্নমানের চাল দেওয়া হচ্ছে। বাজারে বেশি দামে চাল কেনার সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়ে এসব পোকাযুক্ত ও পচা চাল পরিষ্কার করে খেতে হচ্ছে তাদের। নিম্নমানের চালের পরিবর্তে ভালো মানের চাল সরবরাহের দাবি জানান তারা।
চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডিলার নাইস বলেন, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে যে চাল সরবরাহ করা হয়েছে, তারাই সেটি উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করছেন। চালের মান নিয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার সুযোগ নেই।
সাহারবাটি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমতারা বলেন, চালগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। সরকার অসহায় মানুষের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা নিম্নমানের চাল দিয়ে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাংনী উপজেলা এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, আমার অগোচরেই ডিলাররা চাল নিয়ে গেছেন। তবে পোকাযুক্ত ও নিম্নমানের চাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গোডাউনে ভালো মানের চালই সরবরাহ করা হয়।
মেহেরপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আসমা উল হোসনা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা এমন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে খাদ্যগুদাম সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী মুঠোফোনে প্রতিবেদককে সংবাদটি প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ফোনালাপের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত চালের মান নিয়ে এমন অভিযোগ উঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চালের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পড়ুন : হরমুজ প্রণালীতে অস্থায়ী নৌপথ চালুর প্রস্তাব ইরান-ওমানের
সা/


