বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ভাগনিকে ধর্ষণের অভিযোগ, কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দেহব্যবসায়ে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে পুলিশ মো. আবু মিয়া (৫০) নামে একজনকে গ্রেফতার করে এবং দুপুরের দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা-পুলিশ।

এ মামলার প্রধান আসামী হলেন বকুল মিয়া (৫৫)। যিনি সম্পর্কে ভুক্তভোগীর খালু হন এবং কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

এজাহারে অন্যান্য আসামীরা হলেন- মো. আবু এবং বকুল মিয়ার মেয়ে মোছা. লিমা (২১), স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪৮) ও মোছা. স্মৃতি (৩২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চার জনকে আসামী করা হয়েছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কেন্দুয়া পৌরশহরে অবস্থিত স্বনামধন্য একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই সে ভয়াবহ এমন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে।

২০২২ সালের ২০ নভেম্বর দুপুর অনুমান ২টার দিকে পায়ে ঘা হওয়ার চিকিৎসার কথা বলে আসামী বকুল মিয়া কিশোরীকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস রোডের অজ্ঞাত বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আসামী তার নিজের বসতঘরে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এই কাজে বকুল মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও মেয়ে লিমা পরোক্ষভাবে সহায়তা করত এবং লিমা কিশোরীকে ডেকে নিয়ে আসত।

নির্যাতনের মাত্রা এখানেই থেমে থাকেনি। প্রধান আসামী বকুল মিয়ার নির্দেশে ওই কিশোরীকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। আসামী মো. আবু-এর বসতঘরের খাটে কিশোরীর মুখে স্প্রে মেরে অজ্ঞান করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হতো। নির্যাতনের পর আসামী আবু তাকে জোরপূর্বক ট্যাবলেট জাতীয় ঔষধ খাওয়ানোর চেষ্টা করত।

বকুল মিয়ার কথা মতো আসামী স্মৃতির সাথে কিশোরীকে যেতে বাধ্য করা হতো, যেখানে স্মৃতি তাকে অজ্ঞাতনামা ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে দেহ ব্যবসায়ে বাধ্য করত এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে ধর্ষণ করত।

ঘটনা প্রকাশ করলে কিশোরী ও তার বাবাকে খুন করে লাশ পানির ট্যাংকিতে গুম করা এবং এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো, যার ফলে ভয়ে কিশোরী মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে চলা পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি সম্প্রতি জানাজানি হয়। চলতি মাসের পহেলা আগস্ট তারিখে কিশোরী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গেলে ধারণকৃত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ভাইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কিশোরী তার ভাবীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে জানা যায় ভু্ক্তভোগী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আজ (বুধবার) ভোর রাতের দিকে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃত আবু মিয়াকে আজ (বুধবার) দুপুরের দিকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযুক্ত বকুল মিয়া কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এর আগে আমার জানা ছিল না। আমরা আজ (বুধবার) রাতের মধ্যেই দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে বাঁচিয়ে পুরস্কৃত হলেন সেই পুলিশ সদস্য

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন