মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভুগা গ্রামের কুরআনে হাফেজ মো. ছাইদুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি ২০২২ সালে তিনি একটি মাত্র ড্রাগন ফলের চারা দিয়ে নিজের ছাদে ফল চাষ শুরু করেন।
বর্তমানে তার ছাদবাগানে আমেরিকান বিউটি, ভিয়েতনামিজ হোয়াইট, ভিয়েতনাম রেড, সুগার ড্রাগন (S-8), ফিজিক্যাল গ্রাফিতি, পার্পল হেইজ ও গডজিলার মতো আকর্ষণীয় জাতসহ প্রায় ৩০০টি ড্রাগন গাছ রয়েছে। ড্রাগন ছাড়াও আমেরিকান স্ট্রবেরি, রয়্যাল গালা আপেল, ইয়েমেনি বেদানা, কমলাসহ বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করছেন তিনি। মূল ব্যবসার পাশাপাশি ফল চাষ করে বর্তমানে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন বলে জানান তিনি।
তার ব্যতিক্রমী ছাদবাগান দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ আসছেন। বাগান ঘুরে দেখে অনেকেই নিজেদের বাড়ি ও ছাদে ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। ছাইদুল ইসলাম বলেন, “চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ফল চাষ করেও ভালো আয় করা সম্ভব। এতে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা মেটানো এবং দেশের খাদ্য উৎপাদনেও ভূমিকা রাখা যায়।”
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এ. এস. এম. রাশেদুজ্জামান বিনহাফিজ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়ে ছাইদুলকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার বাগান দেখে অনেক কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তা ফল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
ছাইদুলের পথচলা যেন এক জীবন্ত পাঠযে হাত একদিন কুরআন মুখস্থ করেছে, সেই হাতই আজ ফুটিয়ে তুলছে ফলের সমারোহ। জ্ঞান, ধর্ম আর কর্ম — তিনটিকেই তিনি বেঁধে দিয়েছেন একই সুতোয়। তার এই সংগ্রাম প্রমাণ করে, সাফল্যের জন্য বড় জমি নয়, দরকার বড় স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
একটি মাত্র চারা থেকে ৩০০ গাছের ছাদবাগান গড়ে তোলা ছাইদুলের এই উদ্যোগ এখন এলাকার তরুণদের কাছে প্রেরণার গল্প।
তার মতো উদ্যোক্তারাই গড়ে তুলবেন স্বাবলম্বী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
পড়ুন : বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ভাগনিকে ধর্ষণের অভিযোগ, কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা


