বিজ্ঞাপন

কালকিনিতে সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখলের চেষ্টা, হামলায় দম্পতি গুরুতর আহত

মাদারীপুরের কালকিনিতে সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় আব্দুল হামিদ আকন (৫০) ও তাঁর স্ত্রী ঝুমকি বেগমকে (৪০) মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গেলে দেখা যায় ভর্তি রয়েছেন তারা। হামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আইনি প্রক্রিয়ায় বন্দোবস্ত পাওয়া ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন আব্দুল হামিদ আকন ও তাঁর পরিবার। তবে স্থানীয় কবির খান, ফারুক মালত, নজরুল মালত, আমির হোসেন মৃধা, হাবি মালত ও হারুন মালতসহ কয়েকজন জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান।

আব্দুল হামিদ আকনের জমির নামজারির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল আরেফীন সরেজমিনে জমিটি পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউএনও ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর কবির খান ও ফারুক মালতের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়।

এ সময় আব্দুল হামিদ ও তাঁর স্ত্রী ঝুমকি বেগম বাধা দিলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় দুজনই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বন্দোবস্তের জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল হামিদ আকন বলেন, ‘সরকার সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে আমাদের নামে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।’

আহত ঝুমকি বেগম বলেন, সরকার আমাদের জমি দিয়েছে বন্দোবস্ত করে। সেই জমি দখল করার জন্য তারা আমাদেরকে মারধর করেছে আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত কবির খানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফীন বলেন, ‘ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। নামজারির জন্য হামিদ আকন আবেদন করেছিলেন। সেটি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার আমার শেষ কর্মদিবস ছিল। বদলি হয়ে যাওয়ায় আমি চলে আসার পর সেখানে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠাই। পরে তাঁরা থানায় অভিযোগ করেছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’

পড়ুন: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে উপচে পড়ল হ্রদ: প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে মানুষ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন