নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে লাগানো চারা গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার বাউসাম গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য হযরত আলী (৫২) এবং বামনগাঁও গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে মো. ইন্নছ আলী (৭২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের হীরাকান্দা এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল ও স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা গুতুরা বাজার এলাকার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে সরে যান। পরে কলমাকান্দা বাজারের দিকে যাওয়ার পথে বাবনী এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা অনেকগুলো চারা গাছ সুবেষ্টনীসহ উপড়ে ফেলেন অভিযুক্তরা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের দিকনির্দেশনায় কলমাকান্দা উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে সড়কের পাশে এসব চারা গাছ লাগানো হয়।
বিএনপির স্থানীয় সূত্র জানায়, গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরও কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ২৮ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দেন।
ডেপুটি স্পিকারের এই নির্দেশনার পরপরই পুলিশের আইনি কার্যক্রম গতি পায়। গত ২৯ আগস্ট রাতে কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরদিন ৩০ আগস্ট মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং বাকি আসামিদেরও শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।
পড়ুন:রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ইমি/


