নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা ও পুকুর দখল করে নির্মিত অনুমোদনহীন দুইতলা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে জেলা পরিষদের নির্দেশে অবৈধ স্থাপনাযঝ উচ্ছেদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত ভবনটির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়নি। ভবনটির নিচের অংশ সরাসরি পুকুরের পানির ওপর পিলারের সাহায্যে নির্মাণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি এই অবৈধ স্থাপনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
উচ্ছেদ অভিযান ও ভবন ভাঙার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, “জেলা পরিষদের জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন। এই স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।”
ভবনটির ঝুঁকির দিকটি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “স্থাপনাটির ওপরের অংশের যেমন কোনো অনুমোদন নেই, তেমনি এর নিচের অংশ পুকুরের ওপর সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই আইন অনুযায়ী স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”
সরেজমিনে, মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা ভবনটির ওপরের অংশের বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ভবনটির দুইতলার অবৈধ অংশটি অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে স্থাপনাটির অন্যান্য অবৈধ অংশের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কলমাকান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান আসিফ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এদিকে, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, পুকুরের ওপর স্থাপনাটি নির্মাণের পর থেকেই বাজারের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। সরকারি জায়গা এবং জলাশয় রক্ষায় অনুমোদনহীন এমন স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, কেবল উচ্ছেদই নয়, সরকারি সম্পত্তি ও জলাশয় রক্ষায় ভবিষ্যতে যাতে কেউ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারির সাক্ষাৎ
সা/


