বিজ্ঞাপন

স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি পাবনার শিক্ষা কর্মকর্তা শবনম

বিজ্ঞাপন

বদলির আদেশের পর এবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্ট্যান্ড রিলিজের (তৎক্ষণিক অবমুক্ত) নির্দেশের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি পাবনা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাঈদা শবনম। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি বারবার বদলির আদেশ স্থগিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাবেক এক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বদলির আদেশ আটকে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে চাকরিতে যোগ দেন সাঈদা শবনম। অন্য উপজেলায় মাত্র দুই মাস চাকরি করার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নিজ জেলা পাবনা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

তৎকালীন পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলির “ছোট ভাইবউ” হওয়ার সুবাদে শুরু থেকেই তিনি অফিসে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না হয়ে সপ্তাহে বা মাসে একদিন এসে বকেয়া হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে কর্মচারীরা তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দপ্তর সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পাবনা সদরে একই পদে থাকার পর ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সাঈদা শবনমকে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে ওই আদেশ প্রথমে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কারণ দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর আবারও সেই বদলি আদেশ স্থগিত করা হয় বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

এরপর শিক্ষা প্রশাসন গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পুনরায় তাঁকে পাবনা সদর থেকে ফরিদপুর উপজেলায় বদলির আদেশ দেয়। ওই আদেশে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ১১ আগস্ট ২০২৬ থেকে তাঁকে ‘তৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

সহকারী শিক্ষা অফিসার সাঈদা শবনম বলেন, “আমি বদলির আদেশ সংশোধন করার চেষ্টা করছি। এর জন্য ফরিদপুর উপজেলার যোগদান করি নাই।”

পাবনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাফিয়া আক্তার অপু নিশ্চিত করে বলেন, “তাঁর বিরুদ্ধে বারবার বদলির আদেশ আসার পরও অদৃশ্য কোনো শক্তির কারণে তা বারবার স্থগিত হয়ে যাচ্ছিল। তবে গত ১১ আগস্ট অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে পাবনা সদর অফিস থেকে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সহকারী শিক্ষা অফিসার সাঈদা শবনমকে এই উপজেলায় যোগদানের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত এখানে জয়েন করেননি এবং আমার সাথে কোনো যোগাযোগও করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “উপজেলায় সহকারী শিক্ষা অফিসারের অভাবে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাত্র একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার নিয়ে পুরো উপজেলার কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি আমি জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছি।”

পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবীর বলেন, “বারবার তাঁর বদলির আদেশ স্থগিত হলেও এবার তাকে পাবনা সদর থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। ফরিদপুর উপজেলায় যোগদানের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তিনি এখনো যোগদান করেননি। তাঁকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি, তিনি ফোন রিসিভ করছেন না। সরকারি আদেশ অমান্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একজন কর্মকর্তার বদলির আদেশ ও পরবর্তী স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পাবনার শিক্ষা অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পড়ুন: আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন