মানবদেহে জিংকের গুরুত্ব ও জিংকের ঘাটতি পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধানের চাষ সম্প্রসারণে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে নীতিনির্ধারক ও প্রকল্প অংশীদারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আরডিআরএস বাংলাদেশের আয়োজনে এবং হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘রিয়েক্টস-ইন’ প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশনারা বেগম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আহাদুজ্জামান, আরডিআরএস বাংলাদেশের টিম লিডার ড. এ.কে.এম. সালাহ্ উদ্দিন, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ধান-চাল ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, নারী কৃষি নেত্রী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খাদ্যে জিংকের ঘাটতি থাকলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এ ঘাটতি পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান ও গমের চাষ বাড়ানোর পাশাপাশি এসব খাদ্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
সভায় জিংকসমৃদ্ধ ধানের ৭৪, ৮৪, ১০০, ১০২ জাতসহ গমের বিভিন্ন জাত, উৎপাদন প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ে এসব ফসলের চাষ সম্প্রসারণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষকদের মধ্যে এসব জাতের চাষ বাড়াতে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জিংকসমৃদ্ধ খাদ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। এতে একদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে জিংকসমৃদ্ধ ধান ও গম।
সভা শেষে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জিংকসমৃদ্ধ ধান ও গমের চাষ সম্প্রসারণ এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।


