বিজ্ঞাপন

অর্থের অভাবে ধুঁকছেন দুর্গাপুরের জলিল: বাঁচাতে প্রয়োজন মানবিক সহায়তা

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কিডনিতে টিউমারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছেন ৬০ বছর বয়সী মো. আব্দুল জলিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। টাকার অভাবে থমকে আছে তার উন্নত চিকিৎসা। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে চোখের সামনে মানুষটি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন- এমনটাই অসহায় কণ্ঠে জানাচ্ছেন তার স্বজনরা।

মো. আব্দুল জলিল দুর্গাপুর উপজেলার ২নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের দশাল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল হেকিম এবং মায়ের নাম জুবেদা খাতুন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করছিলেন আব্দুল জলিল। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার পরামর্শে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনেই তার কিডনিতে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে বাঁচাতে হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা জরুরি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, চিকিৎসার এই বিশাল ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

স্বজনরা জানান, ষাটোর্ধ্ব আব্দুল জলিলই ছিলেন পরিবারটির একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি এবং প্রধান চালিকাশক্তি। তার ঘাম ঝরানো আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত পুরো সংসার। পরিবারের সদস্যদের অন্ন, বস্ত্রসহ যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতেন তিনিই। কিডনিতে টিউমার ধরা পড়ার পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। একদিকে পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ, অন্যদিকে চিকিৎসার পাহাড়সম ব্যয়- সব মিলিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার পরিবার। প্রতিদিনের সংসারের খরচ জোগানোই যেখানে দায়, সেখানে চিকিৎসার টাকা যেন তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন।

দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতে পারলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটবে, এমন আশঙ্কায় বিনিদ্র রজনী পার করছেন স্বজনরা। চোখের সামনে পরিবারের প্রধান মানুষের এমন অসহায়ত্বে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা।

নিরুপায় হয়ে আব্দুল জলিলের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি এবং সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি কোনো সহৃদয় চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়ায়, তবে পরিবারটি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে বলেও আকুতি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী মনে করেন, সমাজের বিত্তবানদের একটু সহানুভূতি আর সামান্য আর্থিক সহযোগিতা হয়তো বাঁচাতে পারে আব্দুল জলিলের জীবন। ফিরে পেতে পারে একটি অসহায় পরিবার তাদের একমাত্র অবলম্বনকে। আব্দুল জলিল দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন, প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাবেন- এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। মানবিকতার খাতিরে মুমূর্ষু মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর এখন উপযুক্ত সময়।

পড়ুন : ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৪ জনের মৃত্যু

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন