বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেছেন, “তারেক রহমানের সরকার মানেই সকল ধর্মের মানুষের জন্য সুশাসন এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালোবাসা।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম গিরিশ ধর্মশালা প্রাঙ্গণে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত জন্মাষ্টমী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের সবার। এ দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার।”
তিনি আরও বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”
সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চন্দ্রনাথ ধামকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমান সীতাকুণ্ডে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করেছেন। তিনি সীতাকুণ্ডসহ দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের কথা ও উন্নয়নের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।”
জন্মাষ্টমীর পবিত্র দিনে দেশ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, “মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি আরও গভীর হোক। প্রতিটি ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সীতাকুণ্ড উপজেলা শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে। পরিষদের সভাপতি শ্রী রতন কুমার নাথের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুনন্দ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম চন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণব্রতানন্দ মহারাজ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড মঠ ও মিশনের স্বামী হরিকৃপানন্দ মহারাজ, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্য সচিব মোরছালিন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ সলু, শ্রী জিতেন্দ্র নারায়ণ দাশ নাটু, জুয়েল চক্রবর্তী, মিঠুন বৈষ্ণব, সীমা নাথ, অমলেন্দু কনক, মনোজ কুমার নাথ, ঝুলন কান্তি রায়, রূপন দে, গোপাল শর্মা, বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী, পূজন দে, নন্দন চক্রবর্তী, মোহন পাল, কাকন দাশ ও পাবন কৃষ্ণ দাশসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা ও অন্যান্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়।
পড়ুন : টাঙ্গাইলে সড়কে পড়েছিল স্বাস্থ্য সহকারীর মরদেহ, পরিবারের দাবি হত্যা
সা/


