নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় নিজের ওপর হামলা, ছিনতাই এবং পরবর্তীতে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কেন্দুয়া পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলাম খান শান্তি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম খান শান্তি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে কেন্দুয়া পৌর সদরের দুর্গা টেলিকমের সামনে তিনি অবস্থান করছিলেন। এসময় আবিদ আহমেদ খান (নাদিম) নামের এক যুবক হঠাৎ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় দোকানদার ও সাধারণ জনগণ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পেয়ে ওই যুবককে ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে আবিদ আহমেদ খান উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এম. এ মতিনের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে গিয়ে তাকে আটক করে স্থানীয় একটি শোরুমে নিয়ে বসিয়ে রাখেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
যুবদল নেতা শান্তি আরও জানান, খবর পেয়ে ছিনতাইকারীর চাচাতো মামা সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি পুরো বিষয়টি আগামী সাত দিনের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করে স্থানীয়দের কাছ থেকে নিজ জিম্মায় আবিদ আহমেদ খানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
তবে মীমাংসার পরিবর্তে পরবর্তীতে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এবং ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ছিনতাইকারী নিজেই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে যুবদল নেতা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে। একইসঙ্গে তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
পড়ুন : ভুয়া র্যাব সেজে স্কুল ছাত্রী কে ধর্ষণ, প্রতারক গ্রেফতার


