বিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো আয়োজন—মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য পোলাও ছাড়া যেন পূর্ণতা পায় না। অথচ এখন সেই পোলাওয়ের চালই হয়ে উঠছে অনেক পরিবারের বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ। একসময় যে চাল ছিল নাগালের মধ্যে, মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে সেটিই কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি। বেড়েছে উৎপাদন, রপ্তানিও বন্ধ; তারপরও বাজারে কেন এই লাগামহীন দাম? পোলাও চালের দামের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে আসলে কী?
এক মাসের ব্যবধানেই খুচরা পর্যায়ে পোলাও চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর তিন মাসের হিসাবে কোনো কোনো সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুচরা বিক্রেতারাও। এদিকে পোলাও চাল কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, যেহেতু এখন উৎপাদন বাড়ছে সেই হিসেবে আমাদের তো দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমে ১৪০ টাকার জিনিস ২০০ টাকা হয়ে গেছে। আরেক ক্রেতার অভিযোগ, চাউলের বাজার বড় বড় সিন্ডিকেটের দখলে। এখানে বড় বড় সব কোম্পানি।
মিল মালিকরা দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ দিয়ে একজন বিক্রেতা বলেন, মিলেরা দাম বাড়াচ্ছে। ওরা বলছে যে সরকার তাদেরকে রেট দিয়েছে ১৯০ টাকা। ওই টার্গেটে ওরা দাম বাড়িয়েছে। তারপরে ১৯০ এর পরে ২০০ এর উপরে উঠে গেছে। অন্য একজন বিক্রেতা বলেন, পোলাও চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সবাই এত দাম দিয়ে নিতে পারে না। যাদের টাকা আছে ওরাই নিতে পারে।
আরেক বিক্রেতা বলেন, বর্তমানে পোলাও চাউলের রপ্তানি বন্ধ, তাহলে তো চাউলের দাম কমার কথা। আর এই চাউলের দাম বাড়ারতো কোন কারণ আমি দেখছিনা। এগুলা উৎপাদন হয় অগ্রহায়ন মাসে।
রাজধানীর কৃষি মার্কেটের পাইকারি বাজারে মানভেদে সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪৮ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে। একজন পাইকার বলেন, পোলাও চালের দাম বাড়ছে, এই জন্য কেনা সম্ভব না। এক কেজি চালের দাম অনেক টাকা আসে। তারপর ওই পরিমাণে আমাদের সেল নেই। দাম বাড়লে কম চলে। অন্য একজন পাইকার বলেন, যেমন এক মাস আগে আমি ১০০-১৫০ মণ চাউল কিনছি। আরও হয়তো বেশি কিনতাম যদি বাজার দর কম থাকতো।
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের মধ্যে প্রতি কেজি চালের দামের ব্যবধান প্রায় ৩০ টাকা। এই ব্যবধানকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন পাইকাররা। দাম বাড়ার বিষয়ে অন্য একজন পাইকার বলেন, বাজার খারাপ, এটা ২০০ পর্যন্ত হয়ে গেছিল। কিন্তু এখন মোটামুটি একটু কমেছে। মার্কেটে ১৯০-১৯৫ টাকা এরকমের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, গত বছর দেশে পোলাও চালের আবাদ বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদনও বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোলাও চালের উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ৫৮৮ মেট্রিক টন। তবে সম্প্রতি সুগন্ধি চালের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সব ধরনের পোলাও চালের দাম বেড়েছে।
বিষয়টি নজরদারিতে রাখার কথা জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ঢাকা জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, চাল রপ্তানি করার জন্য যারা অনুমোদন নিয়েছেন, তারা আসলে এই চালটা কি কোথাও রেখেছেন কিনা? সেগুলোও আমাদের টিমগুলো মনিটরিং করছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। যদি কোথাও অবৈধ মজুতদারির সন্ধান আমরা পাই, অবশ্যই আমাদের যে আইনের ব্যবস্থা নেয়ার আছে সেটা আমরা নিব।
পড়ুন: দেশের বাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম
আর/


