নেত্রকোনার মদন পৌর শহরে মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য একটি কলা খেতে বলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডার জেরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের ধারালো অস্ত্রের (বটি) কোপে প্রাণ হারিয়েছেন আলাই মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে মদন পৌরসভার আশকিপাড়া এলাকায় নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘাতক ছেলে ইয়াসিনকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। নিহত আলাই মিয়া ওই এলাকার মৃত কুন্ডু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আলাই মিয়ার আট ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে অভিযুক্ত ইয়াসিন সবার ছোট। সে গত তিন-চার বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল। অসুস্থতার কারণে গত দুই দিন ধরে ইয়াসিন কোনো ধরনের খাবার (ভাত) খায়নি।
বুধবার ভোরে প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফেরেন বৃদ্ধ আলাই মিয়া। ঘরে ফিরে তিনি চুলায় চা তৈরি করছিলেন। এমন সময় ছোট ছেলে ইয়াসিন ঘুম থেকে উঠলে, দুই দিন ধরে অভুক্ত ছেলেকে বাবা একটি কলা খেতে বলেন। সামান্য কলা খাওয়াকে কেন্দ্র করেই বাবা ও ছেলের মধ্যে আকস্মিক কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছেলে ইয়াসিন চরম উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং হাতের কাছে থাকা ধারালো বটি দিয়ে পেছন থেকে বাবার ঘাড়ে সজোরে কোপ দেয়। এতে বৃদ্ধ আলাই মিয়া মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
তাৎণিকভাবে পরিবারের অন্য সদস্যরা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় আলাই মিয়াকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মদন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে ইয়াসিনকে বাড়ি থেকেই আটক করতে সক্ষম হয়।
এ মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দীন করিম বলেন, “”হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ছেলে ইয়াসিনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের হাতে জন্মদাতা পিতার এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় আশকিপাড়া এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মানসিক রোগীদের প্রতি পরিবারের আরও বেশি যত্নশীল ও সতর্ক হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
পড়ুন : পোলাও চালের দামে লাগামহীন দৌড়, কারসাজি কোথায়?
সা/


