সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও ফুটেজই এবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের হাতিয়ার হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অস্ত্র প্রদর্শন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরই অস্ত্র প্রদর্শনকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই মধ্যে সাদেক (২৯), কামরুল হাসান (৩৯), হানিফ (৩৪) ও রিপন (৩২) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাদেককে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পুলিশ বলছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর অস্ত্র হাতে কয়েকজনের ছবি ও সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনার পর জড়িতদের শনাক্ত করে পুলিশ। একই সঙ্গে প্রদর্শিত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শন, দলাদলি ও মারামারিতে জড়িতদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রদর্শিত অস্ত্রের একটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। জনমনে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে এমন সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে সংঘর্ষের নেপথ্যে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিরোধকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
একই স্থান ও সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচির দিন দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষের পর এক পক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবরোধ করলে মহাসড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
এখন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পড়ুন : নরসিংদীতে মানব পাচার মামলার আসামি জাকির হোসেন কারাগারে


