বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৭ আগস্ট কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো আসামি মো.আনিছুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ। অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে প্রায় ১২৪টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন তিনি। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আনিছুর রহমান কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৬ সালে উপজেলার আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘শ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’নামে একটি এনজিও চালু করে।

এদিকে, আনিছকে গ্রেপ্তারের খবরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের কয়েকশ শাখা খোলেন আনিছ। দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের নামে মোটা অংকের টাকা জমা নেন। একপর্যায়ে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদের পাহাড় গড়েন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা টাকার জন্য চাপ দিলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের শুরুতে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে আনিছের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় তার। ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আনিছুরসহ ১০৪ জন আসামি পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমারখালী থানা প্রাঙ্গনে উপস্থিত সাংবাদিকদের আনিছের ভাগ্নি বিনা খাতুন বলেন, দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন সব শেষ। হয় টাকা ফেরত দিক, না হলে ওর ফাঁসি হোক।

আনিছের প্রতারণার শিকার রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মাজেদ (৬৪) বলেন, সারা জীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে সাড়ে ১ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। চার বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় আনিছের এনজিওতে রেখেছিলাম। দুই বছরের মাথায় সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে এনজিও খুলে ‘মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আনিছ। আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে বেশ কিছু কয়দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে এই আনিছুর রহমানও ছিল। বুধবার দিবাগত রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা থেকে তাকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে।

পড়ুন : কেন্দুয়ায় বেশি দামে সার বিক্রি: ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন