বিজ্ঞাপন

ইউপি নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে কিছুই জানে না সরকার: শাহে আলম

বিজ্ঞাপন

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ বিষয়ে সরকারও কিছু জানে না বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, টেলিভিশনে তিনি দেখেছেন, নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপে ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে। এ সময় প্রস্তুতি সভা, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তারিখের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। এ ব্যাপারে সরকারও কিছু জানে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর।

সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সকালে সভা করে। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এই নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রাক প্রস্তুতি মূলক সভা করেছি। সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “

বিকেলে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

“প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, ৩য় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। ৪র্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৫ম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ৭ম ধাপ ২৭ মে।“

প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চায় ইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে চলতি মাসে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। কমিশনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো। ভালো নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসিকে নৈতিক সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মারা যায়। অনেক সহিংসতা হয়। এবার যাতে কম মারা যায় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী এবং তাদের লোকজন যেন কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে সবাই যাতে সহনশীলতার পরিচয় দেয় সেজন্য সব রাজনৈতিক দলকে এক দিন ডাকব। সব দলের সঙ্গে একযোগে বসব। তাদের কাছে সহযোগিতা চাইব।’

কী রকম সহযোগিতা চাইবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সহযোগিতা বলতে যাতে সুন্দ নির্বাচন হয়। ঝামেলামুক্ত নির্বাচন হয়। কেউ যাতে ভায়লেন্স না করে ইত্যাদি।’

তিনি বলেন, ‘নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল থেকে একজন বা দুজন করে প্রতিনিধি ডাকব। সবাই একত্রে আসবেন। একটা মিটিংয়ের মতো হবে, তারা যদি কোনো সাজেশন দেন শুনব আর আমরাও বলব। কোনো তারিখ নির্ধারণ না হলেও শিগগিরি বসব বলে আশা করছি। আমরা আগের (জাতীয়) নির্বাচন ভালো করেছি, এই নির্বাচনও যাতে ভালো হয় সে বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চাইব।’

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল চূড়ান্ত করার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ তা ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ৮ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।

নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব বলেন, “উপনির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে, আর তিনজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার থাকবেন।”

গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এই প্রার্থী পরদিন শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।

সংবিধানের ৫০ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রপতি তাঁহার কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইলে রাষ্ট্রপতিরূপে তাঁহার কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।”

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

পড়ুন: আমদানিনির্ভরতার ফাঁদে জ্বালানি খাত: বাড়ছে বিদ্যুৎ ঘাটতি, সংকটে শিল্প উৎপাদন

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন